আইপিএলে বসে থাকাটাও মোস্তাফিজের জন্য শাপেবর: সুজন

কাঁধের অপারেশনের পর আবার বল হাতে দুর্বার মোস্তাফিজ। সেই মাপা লাইন ও লেন্থে বল ফেলা। মাঝে মধ্যে গতির রদবদল বা বৈচিত্র। কখনো স্লোয়ার ছুড়ে ব্যাটসম্যানকে বেকায়দায় ফেলে দেয়া। সব মিলে যেন সেই চেনা মোস্তাফিজ।

নিশ্চয়ই কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সবারই খুশি হবার কথা। হয়তো ড্রেসিং রুমে সবার প্রশংসায় এখন মোস্তাফিজ।

মোস্তাফিজের বোলিংয়ে খুশি খালেদ মাহমুদ সুজন। জাতীয় দলের বর্তমান ম্যানেজার বলেন, সত্যিই অনেক দিন পর দারুণ বোলিং করেছে মোস্তাফিজ। তবে এমন আগুন ঝড়ানো বোলিংকে অস্বাভাবিক মানতে নারাজ খালেদ মাহমুদ।

তার বোধ, উপলব্ধি, মোস্তাফিজ অনেক বড় মাপের বোলার। অপারেশনের ধকল কাটাতে সময় লেগেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা আইপিএলে গিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকাটাও ‘শাপেবর হয়েছে।’

মোস্তাফিজের বোলিং সম্পর্কে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল মোস্তাফিজ এ সফরের ফিরে আসবে। বলতে পারেন আমি জানতাম ও আয়ারল্যান্ডে ভালো বল করবে। দেখবেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভালো করেবে।

ভাবছেন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ঠাণ্ডা আবহাওয়া, কনকনে বাতাস আর ঘাসের উইকেট বুঝি তাকে বাড়তি সাহায্য করবে। নাহ, আমি ঠিক ঐ আলোকে বলছি না। শুধু কন্ডিশনের কারণে নয়। মোস্তাফিজ আসলে আহত বাঘ।

আগেরবার যে আইপিএল খেলতে গিয়ে হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করে হিরো হয়ে দেশে ফিরেছে। এবার সেই আসরের প্রায় পুরো সময় বসে থাকতে হয়েছে। একদিন ৩ ওভার বল করে আর মাঠে নামা হয়নি। এটা ওর ক্যারিয়ারে প্রথম।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরুর পর থেকে মোস্তাফিজ শুধু আলোই ছড়িয়েছে। অন্ধকার কি জিনিস তা দেখেনি। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময় সাফল্যই ছিল সঙ্গী। এই রমরমা দিনই যে শেষ নয়। ক্যারিয়ারে আরও একটা দিক ও যে আছে, সেটা এতকাল দেখা হয়নি।

এবারের আইপিএল খেলতে গিয়ে পুরো অপক্ষোয় কেটে গেছে মোস্তাফিজের। আর সুযোগ মেলেনি। এই সুযোগ না পাওয়াটাই মনে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে। খেলতে না পারার যন্ত্রণা নয়।

মনে হয় মোস্তাফিজের ভেতরে এক ধরণের জেদ জন্ম নিয়েছে। ভালো করার ইচ্ছা প্রবল হয়েছে। আইপিএল খেলতে না পারাটা তার ভেতরে শুধু ধাক্কাই দেয়নি। একটা অন্যরকম প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি করেছে।