[X]

বহুগুণের তুলসি পাতা চিবিয়ে খাবেন নাকি রস?

ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত তুলসি গাছ। এর পাতা বিভিন্ন রোগ নিরাময়ক হিসেবে কাজ করে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তুলসি পবিত্রতার প্রতীক। তাই হিন্দুদের বাসা-বাড়িতে তুলসি গাছ বেশি দেখা যায়।আয়ুর্বেদ ও ঐতিহ্যগত ওষুধতত্ত্ব অনুসারে, তুলসি পাতার তিতা ও কষাটে স্বাদ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ অ্যান্টিবায়টিক।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. আশুতোশ গুয়াতাম জানান, তুলসি পাতায় প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যায়, যা আমাদের শ্বাসতন্ত্র সতেজ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
তুলসির পাতা দিয়ে তৈরি চা বুকের ব্যথা, কফ, জ্বর তাড়াতে কাজ করে। দিনের শুরুতে দুই থেকে তিনটি তুলসি পাতা খেলে পাকস্থলি সজীব থাকে। এটি মানবদেহের রক্তের সংশোধক (পিউরিফায়ার) হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন বিষক্রিয়া থেকে দূরে রাখে এবং দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য প্রক্রিয়াকে রাখে সক্রিয়।
এবার কথা হচ্ছে কীভাবে এই তুলসি পাতা কাজে লাগাতে হবে। তুলসি গাছ থেকে পাতা ছিড়ে পানিতে ধুয়ে সরাসরি চিবিয়ে খেতে হবে, নাকি রস বা জুস বানিয়ে খেতে হবে? বহুগুণের এই তুলসি পাতার ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে আছে বিতর্ক। তুলসি পাতা চিবানো নাকি রস এ নিয়ে পাল্টা-পাল্টি যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছে।

তুলসি পাতায় উচ্চমাত্রায় পারদ ও আয়রন রয়েছে, যা এর পাতা চিবানোর মধ্যদিয়ে বেরিয়ে আসে। এতে থাকা খনিজ পদার্থ দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে তুলসিতে আছে হালকা অ্যাসিড- যা মুখকে ক্ষারীয় করে তোলে। তাই অনেকে তুলসি পাতা চিবানো সমর্থন করেন না। তবে নিয়মিতভাবে বেশি পরিমাণে তুলসি পাতা খাওয়া হলে দাঁতের ময়লা পরিষ্কার হয়।

তুলসি পাতা থেকে নিষ্কশিত জুস বা রস মুখের আলসার প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু এখনো তুলসির কাঁচা পাতা চিবানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিজ্ঞানী পারভীন ভারমা বলেন, তুলসিতে বিদ্যমান পারদ দাঁতকে কষাটে করতে পারে। কিন্তু ডেন্টাল স্বাস্থ্যের জন্য আসলে ক্ষতিকর নয়।
তবে যাইহোক বেশির ভাগ মানুষ কাঁচা তুলসিপাতা চিবানোর চেয়ে রস বানিয়ে খাওয়াই সমর্থন করেন; যা বেশি কার্যকর বলে ধারণা করা হয়।