‘বাজে পারফর্ম করার পরও অনেকেই দলে টিকে আছে’

একটা সময়ে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ওপেনার ছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। কিন্তু ফর্মহীনতার কারণে ২০১১ সালে জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন তিনি।
ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ পরার পর ২০১৩ সালে টেস্ট দলের দরজাও বন্ধ হয়ে যায় তার জন্য। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে রঙ্গিন জার্সিতে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন মোট ৬০টি ওয়ানডে। আর এই ৬০ ওয়ানডেতে নাফিসের ব্যাট থেকে এসেছে ১৮৭৫ রান।
পরবর্তী দুই বছরে মাত্র ১৫টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই সময়ে ব্যাট হাতে বেশী উজ্জ্বল ছিলেন না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৫ ম্যাচে মাত্র ৩২২ রান আসে তার ব্যাটে।
এছাড়াও ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল থেকে টেস্টে করেছেন ১১২৬ রান। ওয়ানডের মত টেস্টে ২০১১ সালের পর ফর্ম হারিয়ে ফেলেন নাফিস। ২০১২ এবং ১৩ সাল মিলিয়ে মাত্র ১৪১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
কিন্তু দল থেকে বাদ পরার পরও হাল ছাড়েননি এই বাঁহাতি। নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের মাঝে থাকলেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেননা নাফিস।
তবে নাফিসের দাবি ব্যাট হাতে তার পারফর্মেন্স এতোটাও বাজে ছিলনা যে তিনি দল থেকে বাদ পড়বেন। নাফিস আরও মনে করেন তার থেকেও বাজে পারফর্ম করেও এখনও জাতীয় দলে জায়গা ধরে রেখেছেন জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।
ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে আলাপকালে এসব নিয়েই কথা বলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে আলাপকালে নাফিস জানান,’আমার পারফর্মেন্সের গ্রাফ এতোটাও বাজে ছিলনা যে দল থেকে বাদ পড়ে যাবো।
‘দল থেকে বাদ পড়ার পরও ঘরোয়া লীগে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছি। তবে কেন জাতীয় দলে জায়গা ফিরে পাচ্ছিনা এর উত্তর আমার জানা নেই। আমি বিশ্বাস ভাগ্য আমার সাথে ছিলনা।
জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় আমার চেয়ে বাজে পারফর্ম করার পরও নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। এটা তাদের জন্য সৌভাগ্যের হলেও আমার জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।’
এদিকে ২০০৮ সালে জাতীয় দল ছেলে ভারতে নিষিদ্ধ ক্রিকেট লীগ আইসিএলে খেলতে গিয়েছিলেন নাফিস। তার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আইসিএলে অংশ নেয়ার কারণেই কি দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি?
‘এর উত্তরে নাফিস জানান, আসলে আইসিএলে অংশ নেয়ার কারণে দল থেকে বাদ পড়িনি। আইসিএলে গিয়েছিলাম ২০০৮ সালে। আর দলত থেকে বাদ পড়েছি ২০১৩ সালে। তাই আমি মনে করিনা আইসিএলের কারণে আমার জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’
এছাড়াও নাফিস জানিয়েছেন, তিনি সব সময়ই একজন ফিট ক্রিকেটার ছিলেন। এছাড়াও ইনজুরিজনিত কোন সমস্যাও ছিলনা তার। তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দল থেকে কেন বাদ পড়েছি এই কারণটা আমার জানা নেই আসলে।
ফিটনেস নিয়ে আমার কখনওই সমস্যা ছিলনা এমনকি পুরো ক্যারিয়ারে একবারও ইনজুরির কবলে পড়িনি। তবে আমার কাজ এখন একটাই পারফর্ম করে যাওয়া। যেদিন দেখবো আর পারফর্ম করতে পারছিনা সেদিন ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিবো।’