মহররম ও আশুরার গুরুত্ব

মাওলানা নাসিরুদ্দিন: মহররমকে আমরা অনেকে সঠিকভাবে পালন করি, আবার অনেকে সঠিকভাবে করি না। আবার কোথাও কোথাও  দেখা যায় অতিরঞ্জিতভাবে পালন করা হয়। এর কারণ হলো কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান না থাকা ।  পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মহররম ও আশুরা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

সুরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতের একটি অংশে আরবায়াতুন হুরুম অর্থাৎ অতি সম্মানিত ও মর্যাদা পূর্ণ চারটি মাসকে বলা হয়েছে। আর তা হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব এই চার মাসের মধ্যে মহররমের নাম উল্লেখ আছে। সুতরাং নিঃসন্দেহে মহররম মাসটি সম্মানিত মাস ।হজরত কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন নবী করিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন (তিরমিজি শরিফ) ।

হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন । নবী করিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের রোজার পরে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।  যেমন ফরজ নামাজের পরে শেষ রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ সবচেয়ে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন। (ইবনে হিববান)বুখারী ও মুসলিম শরিফের বর্ণনায় পওয়া যায় যে , হজরত আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে  রোজা রাখছে ।

তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের রোজার কারণ জানতে চাইলেন। অতপর তা জেনে বলেন, এদিনে হজরত মুসা (আঃ) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত লাভ করেন , এদিনেই তিনি বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে উদ্ধার করে নিয়ে নদ-নদী অতিক্রম করেন । আর ফেরাউন সেই নদীতে ডুবে মারা যায় । তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এদিন রোজা রাখে । নবী কারিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মুসা (আঃ) এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রাধিকারমূলক ।

অতপর তিনি ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখতে বললেন । যাতে ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের সাদৃশ্য না হয় ।রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আশুরার রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায় । তবু রমজানের রোজার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে এই মাস এমন কতগুলো স্মৃতি বিজড়িত।  যে স্মৃতিসমুহের সম্মানার্থেই এই মাসকে মহররম বা সম্মানিত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ।

তবে সব ঘটনাকেই ছাপিয়ে যায় বিশ্ব নবী (সা.) দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)এর শাহাদাত বরণের ঘটনা। আশুরার দিন মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার দিন। ভোগবাদীতাকে কোরাবানি করে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দিন। সেদিন ইয়াজিদ তার কয়েক হাজার সৈন্য নিয়ে মাত্র ১৭০ জনের ইমামের কাফেলার সাথে এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।শহিদ করেছিলো নবী পরিবারের সদস্যসহ ৭২ জনকে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন