আশুরায় রোজা রাখার ফজিলত কী?

প্রশ্ন : আমরা আশুরাতে যে তিনটি রোজা রাখি, এই রোজার ফজিলতটা কী? কেন রাখি?

উত্তর : আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে আশুরার ফজিলত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিগত এক বছরের সব সগিরা গুনাহ এই রোজার মাধ্যমে মাফ হয়ে যাবে।’ সেটি শুধু ১০ তারিখে রাখলেও এই ফজিলতটি পাবেন।

যদি ৯ তারিখসহ রাখেন তাহলে আল্লাহর রাসুল (সা.) আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে আমি ৯ তারিখেও রোজা রাখব।’ কিন্তু পরবর্তী বছরের জন্য আল্লাহর নবী (সা.) আর হায়াত পাননি। সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে ৯, ১০, ১১ তারিখেও রোজা রাখতে পারেন।

আশুরার রোজার পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আবদুল ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন মদিনায় এলেন, দেখলেন ইহুদিরা ওই দিন রোজা রাখছে, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তো ইহুদি তোমরা কেন রোজা রাখছ! তখন তাঁরা বললেন, এই দিন আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা মুসা এবং বনি ইসরাইলকে সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে রাস্তা করে বিজয় দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তাঁর বাহিনীকে সলিল সমাধিস্থ করেছিলেন। আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা হকপন্থীদের বিজয় দিয়েছিলেন।

এ জন্য মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইল শুকরিয়া প্রকাশ করে রোজা রেখেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন ইহুদিদের বললেন, ‘তোমরা নবী মুসার ধর্মকে বিকৃত করেছ, তোমরা রোজা রাখছ! আর আমরা তো মুসার অধিক হকদার।’ এর পর তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের নির্দেশ দিলেন রোজা রাখার।

নবী (সা.) কিন্তু এর আগে থেকেই আশুরায় রোজা রাখতেন। অতএব এই রোজাটা হচ্ছে শুকরিয়া আদায়ের রোজা। আল্লাহ সুবাহানাহুতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে বিশাল নির্যাতন থেকে মুক্ত করে সমুদ্রের মধ্য রাস্তা বানিয়ে দিয়ে বিজয় দিয়েছিলেন। তাই এটি শুকরিয়াতান রোজা এবং এর ফজিলতও বেশি।

সূত্রঃ এনটিভি ”আপনার জিজ্ঞাসা”