কেমন আছেন সেই খাদিজা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের নৃশংস হামলায় মৃত্যুঞ্জয়ী খাদিজা বেগম নার্গিসের বর্তমান অবস্থা কেমন তা হয়ত অনেকই জানেন না। কেউ বা হয়ত ভূলেই গিয়েছেন।

সেদিন যেভাবে প্রকাশ্যে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল, তা অনেক সিনেমাকেও হার মানায়। একটা মেয়েকে একজন সন্ত্রাসী চাপাতি দিয়ে কোপাচ্ছেন। কিছু মানুষ দূর থেকে সেটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন ও ভিডিও করছেন। এমন দৃশ্য আমরা সচরাচর সিনেমাতেই দেখি। কিন্তু সেদিন সিনেমায় নয়, বাস্তবেই ঘটেছিল মর্মান্তিক ওই ঘটনা।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবরে এমসি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিস। পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর পথে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

রক্তাক্ত খাদিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় ও পরে তাকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মৃত্যুর মুখে চলে যাওয়া খাদিজা চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেন। হামলার পর ৪ অক্টোবর যখন খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন চিকিৎসকেরা বলেছিলেন তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) বা জ্ঞানের মাত্রা ছিল মাত্র ৬; যেখানে ১৫ থাকতে হয়।

তার মাথার খুলির হাড় (স্কাল বোন) থেঁতলানো এবং গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থা থেকে খাদিজাকে বাঁচিয়ে তোলা চিকিৎসকদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। মোটামুটি সুস্থ হওয়ার পর স্কয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে সাভারে সিআরপিতে পাঠানো হয়েছিল।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বলেন, সে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি। তার বাম হাত ও পা এখনো ঠিক হয়নি। সারাদিন সময় পার করছে হাত আর পায়ের ব্যায়াম করে। এ জন্য পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সে এখনো পড়ালেখা শুরু করতে পারেনি। স্মরণ শক্তিতে সমস্যা থাকায় আগামী সেশনেও তাকে কলেজে ভর্তি করা যাবে না।

খাদিজা বেগম নার্গিস বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছি। অনেক কিছু ভুলে যাই। যেমন ডাক্তার একটা ব্রেনের ওষুধ দিয়েছেন। অনেক সময় খেতে ভুলে যাই। আর তখনই শুরু হয় মাথার যন্ত্রণা। বই খাতা আগলে রাখি, পড়ার চেষ্টা করি কিন্তু মনে থাকে না। ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ব্যায়াম করছি, থেরাপিও নিচ্ছি।সুস্থ হয়ে আবারো কলেজে যেতে চাই। পড়ালেখা শেষ করে ব্যাংকার হতে চাই।

এদিকে জানা গেছে, জেলে বসেই নাকি হুমকি দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। আর তার হুমকির কারণে খাদিজা বেগম নার্গিস কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

চাচা আব্দুল কুদ্দুস জানান, তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বদরুল তার লোক দিয়ে হামলা চালাতে পারেন। এজন্য কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন খাদিজা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বদরুল শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ফলে পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলেও ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছি না।
নৃশংস হামলার আগে থেকেই বদরুল হুমকি দিয়ে আসছিলেন জানিয়ে খাদিজা বলেন,‘সত্যিই যে আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটবে স্বপ্নেও ভাবিনি।

তবে আদালতের মাধ্যমে বদরুলের সাজা হওয়ায় খাদিজা সন্তুষ্ট বলে জানান। এখন তিনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে পড়ালেখা শেষ করে ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।-গো নিউজ২৪