বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু সিয়াম

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু সিয়াম। সিয়ামের ভাই সায়মন মারা গিয়েছে একই রোগে। হাটতে অনেক কষ্ট হয় সিয়ামের। টাকা চাই না শুধু শেয়ার করে সরকারী ভাবে যেন সিয়ামের চিকিৎসা হয় সবাই সেই চেষ্টা করি।

বিরল এক রোগে আক্রান্ত কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আটগড়া গ্রামে ৫ বছরের শিশু সিয়াম। শরীরের অস্বাভাবিকতার কারণে স্থানীয়রা এড়িয়ে চলছে ছেলেটিকে। অন্য শিশুরা ভয়ে তার ধারেকাছে ভিড়ে না। নুরুনাহার বেগম বলেন, ‘অন্য শিশুরা তাকে ঘৃণা করে।

মানুষজন তার এই রোগের কারণে তাকে নোংরা মনে করেন।নুরুনাহার আরো জানান, তার ছেলে কোথায় যেতে পারে না বছর ধরে বাড়িতেই থাকে। বাইরে বের হয় না। কারণ, গ্রামবাসীরা সিয়ামকে দেখে ভয় পায় আর তাকে উদ্দেশ্য করে আজেবাজে কথা বলে। প্যান্ট পড়তে পারেন না। এ কারণে তাকে বাড়ির ভেতরে রাখেন নুরুনাহার।

বিরল এ অসুস্থতায় ছেলেকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। সিয়াম ঠিকমত হাটতে পারে না।
সিয়ামের জন্মের ৮০ দিনের মাথায় বিরল এ রোগের প্রথম লক্ষণ দেখা দেয়। এর আগেই আমার এক সন্তান সায়মন এই রোগেই মারা গেছে।

মোবাইলে কথা হয় সিয়ামের বাবা জহিরের সাথে তিনি জানান, আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে আগের ছেলে সায়মন এই রোগেই মারা গেছে। এখন আবার সিয়াম সেই রোগে আত্রান্ত।

তিনি আরো বলেন আমার কাছে আর এক পয়সাও নেই। গাড়ির সুপারভাইজার করে অল্পসল্প যা কিছু আয় হতো তা দিয়ে ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করেছি ২ লাখ টাকা শেষ এখন তাকে ডাক্তারদের কাছে নেয়া বন্ধ করেছি আমি।বেশ কিছু দিন ধরে তাকে কোনো ডাক্তার দেখাইনি।’

সিয়ামের মা নুরুনাহার বলেন, ‘আমার ছেলেকে সাহায্য করার জন্য আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই। তাকে কষ্ট পেতে দেখা অসহনীয়।’ সন্তানের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেছেন, ‘সে কাঁদে আর জিজ্ঞাসা করে কেন তার এমন কষ্ট হচ্ছে।

আমি তাকে সবসময় বলি আল্লাহ্‌ তাকে অন্যরকম করে সৃষ্টি করেছেন আর তাঁর ইচ্ছায় সেও ভাল হয়ে একসময় পড়াশোনা করতে পারবে; স্বাভাবিক, সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারবে।’

তথ্যসূত্র: ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন’র ফেসবুক অাইডি থেকে সংগৃহীত।