রাজাপুরে অভিযান পাহারা দিয়ে ইলিশ শিকার চলছেই

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুরে বিষখালি নদীতে ইলিশ রক্ষা অভিযান পাহারা দিয়ে অসুধা জেলোর অবৈধভাবে ইলিশ শিকারীদের। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও নজরদারী সত্যেও উপজেরার বড়ইয়া ও মঠবাড়ী ইউনিয়নের একাধিক প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক জেলেকে ইলিশ শিকারে নামতে উৎসাহিত করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের আলমগীর চৌকিদারের একটি, একই গ্রামের মোল্লাপাড়ার একটি ও মঠবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেলোয়ারের একটি চক্র এই অবৈধ ইলিশ শিকারের সাথে জাড়িত। অসাধু এই চক্রগুলো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই অপকর্ম করে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনে লোকবলের অভাব, দ্রুত গতির নৌযান না থাকা ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় অবৈধ ইলিশ শিকার চলছেই। উপজেলা সদর থেকে বিশখালী নদীর দূরত্ব প্রায় ৮/১২ কিলোমিটার।

নদীতে ইলিশ শিকার চলছে এমন সংবাদ পেয়ে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করতে এক থেকে দেড় ঘন্টার সময় প্রয়োজন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় দিনরাত ইলিশ শিকার করছে স্থানীয় জেলেরা। এছাড়াও প্রশাসনকে নজরদারীতে রাখতে কিছু লোক নিয়োগ করেছে এই অসাধু চক্রটি। তারা প্রশাসনের কোন গাড়ী দেখলেই নদী থাকা জেলেদের মুঠোফোনের মাধ্যমে আগেভাগে খবর পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে প্রশাসনের কর্তারা নদীতে নামার আগেই জেলেরা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারছে।

অভিযানের ট্রলার চলে যাওয়ার সাথে সাথেই আবার ইলিশ শিকারে মেতে ওঠে তারা। রীতিমত তারা প্রশাসনকে পাহারা দিয়ে এ অপরাধ করে যাচ্ছে, এ চক্রকে সহসাই দমন করা যাচ্ছে না। আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে গত ৭দিনে রাজাপুর উপজেলার ৬ জন জেলেকে ভিবিন্ন মেয়াদে সাজা ও আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়াও তাদের ব্যবহৃত জাল ও নৌকা ধংস করার পরেও থামানো যাচ্ছে না এই চক্রকে। অবৈধভাবে শিকার করা ইলিশের একটি বড় অংশ যাচ্ছে প্রভাবশালীদের ঘরে।

বাকী মাছ উপজেলার বড়ইয়া পালটের মোল্লাবাড়ি ও মাঝিবাড়ি ও মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গভীর রাতে বিক্রি করছে চক্রটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ৬টি পরিবারের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বলছে, দামে শস্তা হওয়ায় ও বাড়িতে এসে পৌঁছে দেয়ার কারনে এসব ইলিশ কিনছেন তারা। বর্তমানে বিশখালী নদীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। বেশিরভাগ মাছের পেট ভর্তি ডিম রয়েছে। অবৈধ ভাবে শিকার করা এসব মাছের অল্পই বিক্রি করতে পারছে এই অসাধু চক্র।

বাকি ইলিশ তারা সংরক্ষন করে রাখছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে এই মাছ চড়া দামে বাজারে বিক্রি করা হবে। ইলিশ শিকারি চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী এই অপকর্মের প্রতিবাদ করতে পারছে না বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ করেছেন। বিষখালী নদীর বড়ইয়া এলাকার পালট ও চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামে শতাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। তারা আইন অমান্য করতে না চাইলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই সব দরিদ্র জেলেদের নদীতে নামতে বাধ্য করছে বলে একাধিক জেলে অভিযোগ করেছেন।

ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, ইলিশ রক্ষায় দিনরাত কয়েকটি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। কেউ যেন অবৈধ ভাবে ইলিশ শিকার না করতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রয়োজনে আরো বেশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইলিশ রক্ষায় জেলেসহ সকলের সহযোগীতাও কামনা করেন তিনি।

ক্যাপশন: রাজাপুরে বিষখালি নদীর বড়ইয়া এলাকার চিত্র। শনিবার দুপুরে তোলা ছবি।