মৃত্যুর পরেও স্বর্ণার মোবাইলে ফোন এসেছিল!

মৃত্যুর পরেও অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার মোবাইলে ফোন এসেছিল। একবার নয় বেশ কয়েকবার ফোন আসে। যারা কল করেছেন তারা সবাই তার ফেইসবুক ফ্রেন্ড বলে পরিচয় দেন।

সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বর্ণার বাবা সুব্রত বর্ধন। তিনি বলেন, শুক্রবার মধ্যরাতেও কল এসেছিল স্বর্ণার মোবাইলে। মেয়ের ফোনগুলো রিসিভ করেন তার মা সানি বর্ধন। স্বর্ণার মৃত্যুর পর একজন ফেইসবুক বন্ধু পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘স্বর্ণা তো ডেথ গেমসে ঢুকে পড়েছিল।’ কিন্তু পরিচয় জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডের ৪৪ নম্বর বাসা থেকে স্বর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তার পরিবারের সন্দেহ, তাদের মেয়ে ‘ব্লু হোয়েল’ গেমে আসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মৃত্যুর আগে লেখা স্বর্ণার একটি নোট পাওয়া যায়। যেখানে ক্যাপিটাল লেটারে সে লিখে, ‘NO ONE IS RESPONSIBLE FOR MY DEATH’ অর্থাৎ আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আর এই লেখাটির পাশেই ছিল একটি হাসির চিহ্ন আঁকা। যা থেকে বুঝা যায় এটি ব্লু হোয়েল গেমসের ৫০ নম্বর বা শেষ ধাপ।

এদিকে এই আত্মহত্যার রহস্য এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে স্বর্ণার মৃত্যুর পর ব্লু হোয়েল সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। তারা বলছে, বিষয়টি এদেশে প্রথম। গুরুত্বের সঙ্গে এটি দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম’-এর ফেইসবুকে। সেখানে বলা হয়েছে, ঢাকায় Blue Whale গেমসের থাবা। মারা গেলো হলিক্রস কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।

একই সঙ্গে সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের কিছু পরামর্শ দেয়া হয়। বলা হয়, আপনার সন্তান যদি একা একা লুকিয়ে মোবাইলে বেশি সময় কাটায়, অবশ্যই খোঁজ নিন। সন্দেহ হলেই ওর বন্ধুদের সাথে কথা বলুন। হাতে,পায়ে, শরীরে কাটাকুটির চিহ্ন দেখলে দেরি না করে অবশ্যই আলোচনা করুন।

কোনো রকম সন্দেহ হলেই বুঝিয়ে মোবাইল কেড়ে নিন। কৌতূহল থেকেও যেন কেউ এই গেমস ইন্সটল না করে, সে বিষয়ে সচেতন করুন। সন্তানকে বাঁচাতে তাকে বেশি সময় দিন, গল্পের বই পড়তে বলুন, খেলার মাঠে পাঠান, পারিবারিক আউটিংয়ে নিয়ে যান।

স্বর্ণার বাবা সুব্রত বর্ধন বলেন, আমার মেয়ে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করত। মোবাইলে কী করছে দেখতে চাইলে দিত না। তিনি আরো বলেন, গত পনের বা বিশ দিন আগে আমি স্বর্ণার মোবাইল চেক করতে চাইলে সে অভিমান করে। ওই দুদিন খুব মন খারাপ করে থাকে। কথা বলা বন্ধ করে দেয়। স্বর্ণা তার মাকে বলত আমাকে তোমরা বিশ্বাস কর না।

সুব্রত বলেন, স্বর্ণা ছাদে একা একা ঘুরত। এমনকি হঠাৎ হঠাৎ করে ওর ছাদে যাওয়ার নেশা উঠত। রাত ১১টার পরে অনেক বার আমি নিজেই তাকে ছাদে নিয়ে গেছি। পূর্ণিমার চাঁদ তার পছন্দ ছিল।

স্বর্ণার বাবা বলেন, আমার মেয়ের মুখে কোনো দিন এই ব্লু হোয়েল গেমটির নাম শুনি নাই। কিন্তু মারা যাওয়ার দিন আমি এ সম্পর্কে শুনি। বাসায় ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন বলে স্বর্ণা ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত ছিল।