সর্বরোগের মহৌষধ বাদাম !

অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বা জ্যামে বসে, কী পার্কে প্রিয়জনের কাঁধে মাথা রেখে, কোনও কেনও সময় হালকা পানীয়ের সঙ্গেও যার শরণাপন্ন না হলে চলে না, তার নাম হল বাদাম।

এই বাদামটি আমাদের শরীরকে চাঙ্গা রাখতে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। আজ সে সব উপকারের কথাই জেনে নেওয়া যাক-

১. এনার্জিতে ভরপুর

চীনাবাদামের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য পৌষ্টিক উপাদান রয়েছে, যা এনার্জির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. কোলেস্টেরল

চীনাবাদাম খেলে শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল বেরিয়ে যায় এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৩. উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক

চীনাবাদামে মজুত অ্যামাইনো অ্যাসিড বয়ঃসন্ধিকাল উপস্থিতি উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। সেই সঙ্গে দেহে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

চীনা বাদামের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পলি-ফেনলিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপস্থিত পয়েছে, যা পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। আসলে এই অ্যাসিডটি কারসিনোজেনিক নিউট্রোয়াস তৈরি করতে বাধা দেয়, যা ক্যান্সার হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।

৫. স্নায়ুরোগ এবং অ্যালজাইমার রোগকে দূরে রাখে

রেসভেরাট্রোল নামক এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে বাদামের মধ্যে, যা মস্তিষ্কের অন্দরে থাকে নিউরনসদের ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে নানাবিধ স্নায়ুরোগ এবং অ্যালজাইমারের মতো ব্রেন ডিজিজের প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, জীবাণু এবং ছত্রাক ঘটিত সংক্রমণ আটকাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৬. স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমায়

রেসভেরাট্রোল নামক এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে বাদামের মধ্যে। এই অক্সিডেন্টটি মস্তিষ্কে রক্তের সরবারহ বাড়িয়ে দিয়ে স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়।

৭. অ্যান্টি অক্সিডেন্টের চাহিদা মেটে

আমাদের শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে যে যে উপাদানগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তার মধ্যে অন্যতম। প্রসঙ্গত, চীনা বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা মারাত্মক শক্তিশালী হয়ে ওঠে যখন চীনাবাদামগুলিকে পানিতে সেদ্ধ করা হয়। এই সময় বাদামে বায়োক্যানিন- এ নামক একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা প্রায় ২ গুণ হয়ে যায়, সেই সঙ্গে গেনিস্টাইন কন্টেন্ট প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। এই উপাদানগুলি শরীরকে নানা রকম রোগের হাত থেকে বাঁচায়।

৮. ত্বকের যত্নে কাজে আসে

চীনাবাদামে উপস্থিত ভিটামিন ই, মিউকাস মেমব্রেনের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে ত্বকের  লাবণ্যতা বাড়াতেও কাজে আসে। আসলে বাদামে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান ত্বকের অন্দরে জমে থাকা ক্ষতিকারক  উপাদান নষ্ট করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করে।

৯. ভিটামিনের ঘাটতি দূর করে

চীনাবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। সেই সঙ্গে রয়েছে নিয়াসিন, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি৯ এবং প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, যা শরীরের সচলতা বজায় রাখতে নানাভাবে কাজে আসে।

১০. মিনারেলের চাহিদা মেটায়

শরীরে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আইরন, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্কের চাহিদা মেটাতে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, এই সবকটি খনিজ শরীরকে সুস্থ রাখতে কাজে আসে। তাই দেহে যাতে এদের ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন।

১১. গলব্লাডারে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমায়

৩০ গ্রাম চিনাবাদাম অথবা দুই টেবিল চামচ বাদাম অার বাটার প্রতি সপ্তাহে একবার করে খেলে গলব্লাডারে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা তো কমেই, সেই সঙ্গে গল ব্ল্যাডার সম্পর্কিত নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।১২. ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমায়

যে ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে দুইবার চীনাবাদাম অথবা পিনাট বাটার খেয়ে থাকেন, তাদের ওজন বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এক্ষেত্রে রুটি বা পাউরুটির সঙ্গে যেমন পিনাট বাটার মাখিয়ে খেতে পারেন, তেমনি এমনি এমনি চিনাবাদাম খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

১৩. হবু মা এবং বাচ্চার শারীরিক উন্নতি হয়

গর্ভাবস্থার প্রথম পর্যায়ে অথবা তার আগে থেকেই যদি মাকে চীনাবাদাম খাওয়ানো যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে। এমনটা করলে একদিকে যেমন মায়ের নানাবিধ শারীরিক জটিলতা দূর হয়, তেমনি বাদামটিতে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড গর্ভস্থ শিশুর দৈহিক এবং মানসিক সমস্যা নিবারণও সাহায্য করে।

১৪. রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়

বাদামের থাকা ম্যাঙ্গানিজ, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। তাই তো যাদের পরিবারে এমন মারণ রোগের ইতিহাস আছে, তারা সময় থাকতে থাকতে চীনাবাদাম খাওয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা করতে বাস্তবিকই দারুন উপকার মেলে।

১৫. মানসিক চাপ কমে

মস্তিষ্কে সেরোটোনিন লেভেল কমে গেলে দুশ্চিন্তার প্রকোপ বাড়ে। চীনাবাদামে থাকা ট্রাইটোফ্যান সেরোটোনিন লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে চিনাবাদাম খেলে স্ট্রেস এবং মানসিক চাপ কমতে শুরু করে।