আমার স্বামীকে তালাক দিচ্ছি না: মিলা

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের বর্তমান টপিক হচ্ছে কণ্ঠশিল্পী মিলা ও তার স্বামী পারভেজ সানজারি গ্রেফতার, ও তাদের ১০ বছরের প্রেমের সংসারে বিচ্ছেদ এবং মিলাকে মারধর। আর এর মধ্যে অনেকটা আগুনের মধ্যে ঘি ঢেলে দিয়েছেন নির্মাতা ইমরাউল রাফাত। তিনি মিলাকে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে রীতিমতো মিডিয়ার মানুষদের তোপের মুখে পড়েছেন। মিলা প্রথমে বিচ্ছেদে যাচ্ছেন বা যাবেন এই ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন গত ৭ অক্টোবর। ঠিক একদিন পরেই আবার নতুন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই সঙ্গীত তারকা। পাঠকের জন্য হুবহু তার স্ট্যাসটি বাংলায় অনুবাদ করে তুলে ধরা হলো।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমি ২০১৭ সালের মে মাসে আমার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ পারভেজ সানজারিকে বিয়ে করেছি। কারণ সম্পর্কটি আমি অনেক ভালোবাসা দিয়ে লালন করেছি, প্রতিটি মিনিট, প্রতিদিন। আমাদের পারিবারিক, সমাজ ও ঈশ্বরের চোখে সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি স্বাভাবিক এবং আইনানুগভাবে, পবিত্র বিয়েতে বৈধভাবে তার সঙ্গে আমি যুক্ত হয়েছি। আমার এই বিয়েটি সমগ্র দেশ উদযাপন করছে এবং আমার অনুগত হাজার হাজার ভক্তের প্রার্থনাও ছিল।

কিন্তু আমার বিয়ের ১৩ দিন পরে, যখন আমার মেহেদী আমার হাতে দৃশ্যমান ছিল, তখন আমি সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তবতা খুঁজে বের করতে সক্ষম হই। যা আমি কখনোই কোনও নারী জন্য আশা করব না। যে বিষয়গুলো আমি খুঁজে বের করি তা হচ্ছে একাধিক নারী, এয়ার-হোস্টেস, বিবাহিত নারী, তালাকপ্রাপ্ত মহিলারা, অন্য কক্ষের ঘুমের শিশুসহ মায়েদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল। আমাকে যারা অনেক অনেক প্রশ্ন করেছিলেন আসলে ঘটনাটা কী, আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিলাম। এখন আরও প্রশ্ন আসতে পারে আর তা হচ্ছে, কেন আমি বিয়ের স্বীকৃতিতে সক্ষম না যে ব্যক্তি তাকে আমি আগে ভালোবেসে ছিলাম, কেন বিয়ের ১৩ দিনের মধ্যে আমি জানতে পারলাম?

আমার স্বামী এমনকি আমার সাথে ১৩ মিনিট সময় ব্যয় অস্বীকৃতি জানায় যেখানে তার সঙ্গে আমার স্বামী-স্ত্রী, উদারতা এবং সততার সম্পর্ক রয়েছে। অথচ দুটি মৌলিক দায়িত্ব পরিপূর্ণ করতে হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর আর বোধয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ তার গোপনীয় এবং অদ্ভুত সব কার্যকলাপ এখন উপলব্ধি করে আমি বুুঝতে পেরেছি কেন সব টিভি, খবর এবং সামাজিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা যখন বলত আসেন আপনাদের দম্পতিদের সাক্ষাৎকার নেই। কিন্তু আমি রাজি থাকলেও আমার সঙ্গে কোনো সাক্ষাত্কারে সে অংশগ্রহণ করতে চাইতো না।

আরও আছে, আমি তার স্ত্রী অথচ আমার কোন অনুমতি ছিল না বিমানবন্দর থেকে তাকে তার ডিউটি শেষ হবার পর আনতে যাওয়ার। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কের এককভাবে অবস্থা মেনে চলা, যে কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছ সঙ্গে দেখা করানোর জন্য যারা আমাদের সাথে দেখা করতো বা আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাদের অভিনন্দন জানাতো। তাদের সঙ্গে সে দেখাই করত না। এখন এগুলো সব বধগম্য আমার।

এখন কি বোঝা যাচ্ছে না যে এই একই লোক ছিল, যে আমার রেকর্ডিং ছিল কিন্তু একটি বালিশ ছাড়া একটি স্টুডিও এর গালিচা ছাড়া ১০০ শত মাইল তিনি ভ্রমণ করবে, এবং তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি আমার জন্য একটি ডিনারের তারিখ ঠিক করার সামর্থ্য হয়নি। আমিও আমার কাজের জায়গাতে শীর্ষে ছিলাম, কিন্তু আমার প্রতি তার সবসবময় ভালোবাসা, পছন্দ, হৃদয়, আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, বোকা বানানোর জন্য একটি খেলা ছিল এটি। এই বিষয়গুলো একটি অভ্যাসে পরিণত হয় সেটা দীর্ঘ ১০ বছর। এমনকি যখন তিনি আমার জন্য তার সর্বোচ্চ ভালোবাসা দাবি করেন এবং আমার প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ছিল। এসবই ছিল নাটক।
যেটা বুঝতে পারলাম ১০ বছর পর। আর ওই দশ বছর ছিল আমার একটি দুঃস্বপ্ন এবং ছিল একটি মিথ্যে বসবাস। আমিও ১০ বছর আগেও অন্ধ ছিলাম যখন আমি তার প্রেমের মায়াজালে পড়েছিলাম।

আমি ৬ বছর আগে আরও বেশি প্রেমে অন্ধ ছিলাম, আর গত ২০১৪ সালে সেও খুব অন্ধ ছিল আমার প্রেমে তখন সানজারি আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কিন্তু বলেছিলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে কারণ তাকে অবশ্যই ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্সের একজন পাইলট হতে হবে। এসবই তখন আমাদের অন্ধত্বের মধ্যে।

আমি তখনও অন্ধ ছিলাম যখন ১২ মে, ২০১৭ আমি তার জন্য আমার ভালোবাসা, আমার বিবেকের উপর জয়লাভ করে তাকে বিয়ে করার জন্য হ্যাঁ বলি। কিন্তু তখনও আমি বুঝতে পারিনি আমার জীবনকে বিয়েতে পরিণত করার পরের দিন থেকে একটি জীবন্ত নরকে পরিণত করতে যাচ্ছি আমি। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আমি হাত ধরে রাখব এবং মনে করব যে দুনিয়াতে এমন কিছুই আমার ক্ষতি করতে পারবে না কারণ আমার ভালোবাসার মানুষটি আমার সঙ্গে আছে।

কিন্তু যখনই বুঝতে পারছিলাম যে কোন সমস্যা আছে তার তখনও তাকে তার অসততার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। কিন্তু যে মুখের কথা আমার কণ্ঠের চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি ছিল, যে কণ্ঠ দিয়ে আমি দেশ এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয় জয় করেছি। সেই কণ্ঠের চেয়েও দামি কণ্ঠের মুখ দিয়ে পারভেজ স্পষ্টভাবে আমাকে বলেছিল, যাইহোক না কেন, তার অন্য নারীদের ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয় এবং যদি আমাকে তার সঙ্গে থাকতে হয় তবে তা মেনেই থাকতে হবে।

এবং আমি যা বলব তাই মানতে হবে। এটা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। অথচ যে মানুষটিকে আমার বাড়ি, আমার গাড়ি এবং আমার মালিকানাধীন ও আমার কঠোর পরিশ্রম, রক্ত ও ঘাম দিয় যা অর্জিত করেছি সে সবই ব্যবহার করত। যেহেতু আমরা বিবাহিত সেহেতু সে তা করতেই পারে। কারণ আমি চেয়েছিলাম তার সঙ্গে যেন আমি বৃদ্ধ হই। অথচ তিনি আমাকে বলেছিলেন আমার আবেগ, আমার কর্মজীবন, আমার স্বপ্ন, আমার গান ছেড়ে দিতে। আমার স্বামী, আমার ভালোবাসা। কিন্তু এতো কিছু করার পরও আমি কি করে বলব যে আমার মনের মানুষটি অন্য একজন মেয়ের কাছে যাক। কারণ সবসময় তিনি আমার স্বপ্নের মানুষ ছিলেন।

আমি পৃথিবীর প্রত্যেকটি মেয়ের জন্য প্রার্থনা করব যেন তাদের জীবনে আমার মতো সময় না আসে, এমনকি একটি শাস্তি হিসেবেও নয়। পারভেজ সব কিছুতে ধ্বংস করার ক্ষমতা দিয়ে সবকিছুই ধ্বংস করে ফেললেন।

এবং এখনো আমার হৃদয় ক্ষত এবং আমার আত্মা রক্তের কান্না চিৎকার করে যে একটি নারী হিসেবে স্ত্রী হিসাবে, প্রাপ্য আমি ন্যায়বিচার সে আমাকে দিয়েছে। আমি আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে আছি। কিন্তু আমার পরিবারের সবাইকে, বন্ধুবান্ধব এবং অনুরাগীদের জন্য আমার কাছে যে শক্তি আছে তা ধরে রাখতে হবে। আমি জানি আমাকে দৃঢ় থাকতে হবে যাতে আমি সব মহিলাদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে পারি যারা সন্তানের জন্য এবং সমাজের কথাবার্তা ভয়ে চুপ করে থাকে।

কিন্তু কোনও নারী, তাদের যে কোনো পরিস্থিতিতেই, এমনকি সবচেয়ে খারাপ সমস্যা ও বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। যারা এমন ব্যক্তিদের সহ্য করেন তারা তা থেকে বের হয়ে আসুন। আজ যখন আমি আমার প্রেমের বিরুদ্ধে আমার কণ্ঠস্বর তুলে ধরছি। আমি এখন দোষী যে বিবাহবিচ্ছেদ আমার ব্যবসা? আমি এখনো আমার স্বামীকে তালাক দিচ্ছি না। কিন্তু একজন স্ত্রী হিসেবে আমি ন্যায়বিচার চাই।

জানতাম আমি প্রার্থনা করছি যে আমার ভক্তরা এই অবস্থায় আমার পাশে দাঁড়াবে এবং এই সব বছরগুলোতে আমাকে সমর্থন করবে, যাতে আমি এই আবেগের দুঃস্বপ্ন থেকে আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি এবং আপনার কাছে ফিরে আসি।’

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর রাতে মিলা বাদী হয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে তার স্বামী পারভেজের বিরুদ্ধে মামলা করেন মিলা। মামলার নম্বর ৪ (১০) ২০১৭। নারী নির্যাতন দমন আইনে ১১ (খ) ও ১১ (গ) এবং ৫০৬ ধারায় মামলাটি হয়েছে। মিলার দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর পর্যায়ক্রমে কয়েকবার এ ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই পারভেজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবং তিনি বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।-পদ্মা নিউজ