মেসিকে নিয়ে মাতামাতিতে ফুঁসছেন রোনালদো!

ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আবারও মেসি-বন্দনায় মুখর সবাই। রাশিয়ার টিকিট কেটেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও।

অথচ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ গোল করেও রোনালদো যেন আড়ালে! এটা নাকি পছন্দ হচ্ছে না রোনালদোর। তাঁর ধারণা, সবাই যেন যেচে পড়ে মেসির হাতে বিশ্বকাপটাই তুলে দিতে চাইছে। এমনটাই দাবি করেছে স্পেনের সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও গোল।

রোনালদোর কোনো বক্তব্য দিতে না পারলেও মাধ্যমটি দাবি করছে, রোনালদো কাছের মানুষদের বলেছেন, তাঁর পারফরম্যান্স যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। ইউরোপের বাছাইপর্বের কঠিন যাত্রাপথে বলতে গেলে তিনিও তো প্রায় একাই টেনেছেন দলকে! অথচ এ নিয়ে কোনো কাব্যগাথা নেই! মেসি এক ম্যাচে ঝলসে উঠেই সব আলো টেনে নিলেন!

শুধু কি তা-ই, ইকুয়েডর ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলি তো এমনও মন্তব্য করেছেন, ‌ফুটবলের কাছেই একটি বিশ্বকাপ পাওনা আছে মেসির। এ কথা হয়তো আরও বেশি খেপিয়ে দিয়েছে রোনালদোকে!

শুধু সাম্পাওলি নয়, মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখতে চেয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বলেছিলেন, ‘মেসি এখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। এ যুগের ফুটবলের অন্যতম প্রধান ও পরিপূর্ণ খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ না জিতে তার অবসর নেওয়াটা ন্যায্য হবে না।’

সরাসরি মেসির নাম না বললেও রোনালদো এর আগে অনেকবারই বুঝিয়ে দিয়েছেন, একটি খেলোয়াড়কে বেশি ভালোবাসা বরাদ্দ করে কেউ কেউ তাঁর প্রতি অন্যায় করে। কারণ, তিনি মুখের ওপর কথা বলেন। অনেকে তাঁকে মনে করে উদ্ধত। রোনালদো এমনও মনে করেন, অনেকে ঈর্ষা করে তাঁর সাফল্য ও গ্ল্যামারকে।

বাছাইপর্বে মেসির একটি গোলের রেকর্ড নিয়েও বেশ কথা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম হলেও মেসিই প্রথম, যিনি বাছাইপর্বে ২০ গোল করলেন।

অথচ ইউরোপের বাছাইপর্বে ১৫ গোল করার পথে মহাদেশটির সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতার তালিকায় রোনালদোও উঠে এসেছেন দুইয়ে। তাঁর গোল ৭৯টি। আর ৮৯ ম্যাচে ৮৪ গোল নিয়ে শীর্ষে ফেরেঙ্ক পুসকাস।

 তথ্যসূত্র: স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড