কে হচ্ছেন ফিফার বর্ষসেরা?

অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা পরই জানা যাবে কারা পাচ্ছেন ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার। যেখানে ২০১৭ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমার।

ঐতিহ্যবাহী লন্ডন প্যালাডিয়ামে জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। যা চলবে ভোর ৪টা পর্যন্ত।

গতবার মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে সেরা তিনের তালিকায় ছিলেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান। সেবার শেষ হাসি হেসেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। এবার চূড়ান্ত তিনের তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন মেসি ও নেইমার।

গত বছর ফ্রান্সের ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’ এর সঙ্গে ছ’বছরের সম্পর্ক ভেঙে ফেলার পর ফিফা এককভাবে বর্ষসেরা ফুটবলার নির্ধারণের দায়িত্ব নেয়। তবে আগের ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেন’স প্লেয়ার’ নামকরণ করে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আর মূল অনুষ্ঠানের নাম ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ দেওয়া হয়।

গত নয় বছর বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার মেসি ও রোনালদো ছাড়া জিততে পারেননি আর কেউ। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টাইন তারকা পাঁচবার ও রোনালদো চারবার জিতেছেন।

এবার ‘বেস্ট ফিফা মেন’স প্লেয়ার’ জিতলে সবচেয়ে বেশিবার বর্ষসেরা হওয়া মেসির রেকর্ড স্পর্শ করবেন সিআর সেভেন। বছর জুড়ে অসাধারণ সাফল্যের সৌজন্যে এবারও তার বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো। ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং লা লিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনালদোর।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে নক-আউট পর্বে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি নক-আউট পর্বে টানা দু’টি ম্যাচে হ্যাটট্রিকের কীর্তি রয়েছে রোনালদোর। ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন পর্তুগালের অধিনায়ক। গতবার ফাইনালে দু’টিসহ চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক ১২টি গোল করেন তিনি।

এদিকে রোনালদোর চেয়ে দলগত সাফল্য কম হলেও ব্যক্তিগতভাবে গত মৌসুমটা ভালোই কেটেছে মেসির। ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। কাতালন ক্লাবটির পক্ষে সর্বাধিক গোলদাতা ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। রোনালদোর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির ২০১৬-১৭ মৌসুমে একমাত্র সাফল্য কোপা দেল’রে।

পরিসংখ্যানের বিচারে মেসি-রোনালদোর মতো নেইমারের রেকর্ড সেরকম উজ্জ্বল না হলেও বার্সেলোনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে তার পারফরম্যান্স ছিল চমৎকার। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে হারের পর ফিরতি পর্বে বার্সার ৬-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। সেই ম্যাচের শেষ দিকে দুই গোল করার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে সার্জিও রবার্তোকে দিয়ে গোল করান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। সম্প্রতি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি’তে পিএসজিতে যোগ দিয়েও দারুণ খেলছেন তিনি।

এদিকে ফিফা’র বর্ষসেরা কোচের দৌড়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের জিনেদিন জিদান, চেলসির আন্তোনিও কোন্তে ও জুভেন্টাসের ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি। তবে বাকি দু’জনের থেকে অনেক এগিয়ে জিদান। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তির হাত ধরেই গত মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ।

নারী কোচের তালিকা: জেরার্ড প্রিচেউয়ার (লিঁও), নিলস নিয়েলসেন (ডেনমার্ক) ও সারিনা উইগম্যান (নেদারল্যান্ডস)।

গোলরক্ষকের লড়াইয়ে ফিফা’র বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন জুভেন্টাসের জিয়ানলুইজি বুফন, রিয়াল মাদ্রিদের কেইলর নাভাস ও বায়ার্ন মিউনিখের ম্যানুয়েল ন্যুয়ার।

নারী বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের তালিকায় আছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্লি লয়েড, ভেনেজুয়েলার ডিয়ানা কাস্তেলানোস ও নেদারল্যান্ডসের লিয়েকে মার্টিনেস। মার্টিনেস আবার বার্সেলোনার নারী দলে খেলেন।

বছরের সেরা গোল ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় আছেন, আর্সেনালে দুর্দান্ত গোল করা ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার অলিভার জিরুদ। আরও আছেন ভেনেজুয়েলার ডিয়ানা কাস্তেলানোস ও অস্কারিনে মামসুলুক।

এ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে বছরের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে সেরা একাদশ। যা ফিফা ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশ নামে পরিচিত। এছাড়া অনুষ্ঠানে সেরা সমর্থক গোষ্ঠীকে পুরস্কৃত করা হবে। এ তালিকায় আছে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড, সেল্টিক ও কোপেনহেগেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলানিউজ২৪