ধনীরাই কেয়ামতের দিনে হবে দরিদ্রের চেয়েও দরিদ্র: রাসূল সা:

এমন সংবাদ, যাতে মুমিনরা হবে উল্লসিত। তাতে শুধু বেহেশতের সংবাদ। আমি পড়ে যেন প্রথমবার বেহেশতের মধ্যে প্রবেশ করলাম [এটা রেওয়ায়েত সূত্রে বর্ণনা করেছেন ইমাম বোখারি ও ইমাম মুসলিম]।

তারা বলেছেন, এক দিন নিশীথকালে বের হয়ে দেখলাম, রাসূল সা: রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। সম্পূর্ণ একাকী। ধারে কাছে আর কেউ নেই। ভাবলাম, হয়তো তাঁর ভালো লাগছে চাঁদের আলোয় একাকী হাঁটতে। যেন কায়ার পেছনে ছায়া। রাসূল সা: জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? উত্তরকারী বললেন, আমি আবুজার রা:। আপনার ওপর আমার জান কোরবান।

রাসূল সা: বললেন, ‘হে আমার অনুসারী আবুজার, তুমি আমার আরো কাছে এসো।’ অনেকক্ষণ তার সাথে হাঁটলাম। বুঝলাম তিনি একটা কিছু ভাবছেন এবং এখনি তাঁর ভাবনার সাথে আমাকে কিছু বলবেন। আমি উন্মুখ হয়ে তার জবানের দিকে তাকিয়ে। কী বলবেন কে জানে?

রাসূল সা: বললেন, ‘জানো আবুজার, ধনীরাই কেয়ামতের দিনে হবে দরিদ্রের চেয়েও দরিদ্র। শুধু সেই ক’জন বাদে যারা দিনে রাতে ডানে বামে আগে পেছনে শুধু দান করে চলেছে। আর সারা দিন শুধু তালাশ করছে শুদ্ধ আমলের। আরো কিছুক্ষণ হাঁটলেন দু’জন। চলো এখানে বসি।’

আবুজার রা: বললেন, আমাকে তিনি একটি সমতল জায়গায় বসালেন, যার আশপাশে ছোট ছোট পাথরের নুড়ি। হুজুর সা: বললেন, যতক্ষণ ফিরে না আসছি, এখানেই বসে থাকো। তারপর সেই ধু-ধু প্রান্তরে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু প্রস্তরময় মরুভূমি। কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না।

যখন ফিরে আসছেন, তখন তাঁর দু-একটি শব্দ আমার কানে আসে। তিনি বলছেন, যদি সে জেনা করে, যদি সে চুরি করে?

আবুজার রা: বললেন, আমি অনেকক্ষণ আপনাকে না দেখে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলাম। আল্লাহ তায়ালা আপনার ওপরে আমার জান কোরবান করুন। আপনি ময়দানে কার সাথে কথা বলছিলেন? কেউ তো আপনার কথার উত্তর দিচ্ছিল না। রাসূল সা: বললেন, সাথে জিব্রাইল আ:। তিনি বলে গেলেন, আপনার উম্মতদের শুভ সংবাদ দিন। যদি কেউ আল্লাহ্র সাথে শরিক না করে, সে বেহেশতে যাবে।

রাসূল সা: জিজ্ঞেস করলেন, যদি সে জেনা করে, চুরি করে? জিব্রাইল আ: বললেন, হ্যাঁ। যদি সে চুরিও করে, জেনাও করে; তা হলেও আল্লাহ্র সাথে শরিক না করলে সে বেহেশতে যাবে। তারপরে বললেন, যদি সে শরাবও পান করে [এগুলো সংগৃহীত বোখারি, মুসলিম ও তিরমিজি থেকে]। যদিও আবুজার রা: নিজেও এর সবই অপছন্দ করেন [জামউল ফাওয়ায়েদ]। মুস্তাফা জামান আব্বাসী