জামদানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সোফিয়া

কারুকাজ করা জামদানির তৈরি পোশাকে বাংলাদেশি তরুণদের সামনে হাজির হয়েছিল রোবট সোফিয়া। এই পোশাকে তাকে মানিয়েছিল বেশ। আর তাই তো জামদানির প্রশংসাও করল। বলল, ‘মিহি সুতোয় তৈরি জামদানি বাংলাদেশের ঐতিহ্য।’ এই জামদানির স্বত্ব বাংলাদেশিদের।

বুধবার সকালে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গণমাধ্যমের কল্যাণে সারাদেশের তরুণরা সোফিয়ার আগমনের খবরটি জেনেছিলেন। সোফিয়াকে একনজর দেখতে শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারের সামনে তরুণদের ভিড় রীতিমতো জটলায় রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষ হলে সোফিয়াকে দেখার জন্য ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলে। হুড়মুড়িয়ে বিআইসিসির হল অব ফেমে প্রবেশ করেন তারা। এই হলের মঞ্চে প্রথমবারের মতো সোফিয়াকে হাজির করা হয়।

ইতোমধ্যেই হল অব ফেম কানায় কানায় ভরে উঠে। ভেতরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই ভেতরে ঢুকতে না পেরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। আর যারা ভেতরে ঢুকতে পারেন তারা নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করেন।

এদিকে সোফিয়া মঞ্চে আসতে দেরি করায় হৈ-হুল্লোড় লেগে যায়। তাদের সামাল দিতে আয়োজকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। সোফিয়াকে দেখতে এতো ভিড় হবে তারা মনে হয় আশাই করেননি।

প্রতীক্ষার প্রহর পেরিয়ে যখন বেলা তিনটা ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই মঞ্চে সোফিয়াকে এনে হাজির করা হয়। সঙ্গে ছিলেন সোফিয়ার উদ্ভাবক ডেভিড হ্যানসন।

বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাউছুল আলম শাওনের সঞ্চালনায় ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও উপস্থিত ছিলেন। প্রথমেই সঞ্চালক সোফিয়াকে বাংলাদেশের আসার জন্য অভিনন্দন জানান। জবাবে সোফিয়া বাংলাদেশের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলে, ‘হ্যালো বাংলাদেশ। আই অ্যাম আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইন্ট্রিগ্রেটেড রোবট সোফিয়া।’

শাওন সোফিয়ার কাছে ইংরেজিতে জানতে চান, ‘সোফিয়া আপনি কী জানেন, এখন কোথায় আছেন?’ জবাবে সোফিয়া জানাল, ‘আমি বাংলাদেশে আছি। এখানে আজ থেকে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু হয়েছে। আমার সামনে হাজারো তরুণ আমার কথা শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।’

এবার সঞ্চালক সোফিয়ার পরনের পোশাকের তারিফ করেন। বলেন, ‘সোফিয়া আপনি যে পোশাকটি পরেছেন তাতে আপনাকে মানিয়েছে বেশ। আপনি কি জানেন, আপনি কী পোশাক পরে আছেন?’ প্রশংসায় কে না খুশি হয়! রোবট হলেও সেও তো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। তাই খানিকটা হেসে বলল, ‘আমি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানির তৈরি পোশাক পরেছি। এই জামদানি মিহি সুতার তৈরি। আরামদায়ক এই পোশাকটি পরে আমারও ভালো লাগছে।’

এরপর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সোফিয়ার কাছে জানতে চান, একটি জাতিকে বদলানোর জন্য ডিজিটালাইজেশনের ভূমিকা কী হতে পারে? সব জান্তা রোবট সোফিয়া বলল, ‘একটি জাতিকে বদলাতে হলে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নাই।’ বাংলাদেশও সোফিয়ার মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি করতে সক্ষম বলে মন্তব্য করে সোফিয়া।

এরপর সোফিয়ার উদ্ভাবক ড. ডেভিড হ্যানসন সোফিয়ার মতো অত্যাধুনিক তৈরি গল্প বললেন। জানালেন, ছোটবেলা থেকে তিনি রোবট তৈরির স্বপ্ন দেখতেন। তার বিশ্বাস এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট মানুষের হয়ে কাজ করবে। তিনি বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা চাইলে সোফিয়ার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এই সফটওয়্যার ওপেন সোর্সে আছে।

অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে রোবট সোফিয়া ও এর উদ্ভাবককে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মননা জানানোর মধ্য দিয়ে।

সূত্র:ঢাকাটাইমস