চুলের আগা ফাটা রোধে করণীয়

আগা ফাটা চুলের সাধারণ একটি সমস্যা। লম্বা চুলের অধিকারীদের এ সমস্যায় বেশি ভুগতে হয়। এতে চুল লম্বা হওয়া থেমে যায় এবং চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে। আগা ফাটা সমস্যায় চুলের আগার অংশ লালচে হয়ে যায়। ঘরোয়া কিছু উপায়ে চুলের আগা ফাটা সমস্যা থেকে চুল ভালো রাখা সম্ভব। ‘চুলের আগা একবার ফেটে গেলে, তা স্বাভাবিকরূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

তবে চুলের আগা ফাটা সমস্যা প্রতিরোধ করতে নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।চুলের যে অংশটুকু ফেটে গেছে প্রথমে সেই অংশটুকু কেটে ফেলতে হয়। তার পর নিতে হবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। চুলের আগা ফাটার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো তেল। চুলে খুব ভালোমতো তেল মালিশ করুন। প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত নয়। শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদান চুলের ক্ষতি করে। পাশাপাশি ঘরোয়া পরিচর্যা করতে হবে।

চুলের আগা ফাটার কারণ
চুলের আগা ফাটা রোধ করতে প্রথমেই আমাদের আগা ফাটার কারণ জানতে হবে। নানা কারণে চুলের আগা ফাটে। এর মধ্যে রুক্ষতা, চুলে পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত চুল আঁচড়ানো, নিয়মিত চুলের আগা না কাটা, সুষম খাদ্য না খাওয়া অন্যতম। চুলের আগা ফাটা রোধ করতে আমাদের যতটা সম্ভব চুলের আগা ফাটার কারণগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

আগা ফাটা রোধ করতে
চুলের আগা ফাটা রোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে তেল ম্যাসাজ। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল এবং বাদাম তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী। এই তিনটি তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কিংবা আলাদাভাবে যে কোনো একটি তেল চুলে ম্যাসাজ করে নিন। সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুলে সপ্তাহে ৩-৪ দিন তেল ব্যবহার করুন।

চুলের আগা ফাটা রোধ করার পাশাপাশি চুলের কোমলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট। হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট করতে প্রথমে চুলে ভালো করে তেল লাগান। এর পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে পুরো মাথায় জড়িয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এভাবে ৩-৪ বার করুন। এর পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।চুল ছোট হয়ে যাবে বলে অনেকেই চুল ছাঁটতে চান না।

কিন্তু জানেন কি নিয়মিত চুল ছাঁটলে চুল দ্রুত বাড়ে এবং চুলের আগা ফাটা রোধ করারও অন্যতম পদ্ধতি হলো নিয়মিত চুলের আগা ছাঁটা। চুলের আগা ফাটা রোধ করতে প্রতিদিন শ্যাম্পু করার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। কারণ শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদান অনেক সময় চুলের ক্ষতি করে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করা উচিত নয়।

মধুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য যেমন ভালো, তেমনই চুলের জন্য কার্যকরী। গোসলের আগে চুল ভিজিয়ে নিয়ে ভালো করে পুরো চুলে মধু মাখিয়ে রাখুন। একটু স্টিকি হলেও অসুবিধা নেই, ঠিক হয়ে যাবে। ৫-১০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুল থাকবে আগা ফাটা সমস্যামুক্ত।

চুলের আগা ফাটা রোধ করতে একটি বড় পেঁয়াজ, একটি পাকা কলা এবং এক টেবিল চামচ মধু একসঙ্গে ব্লেন্ড করে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহারে চুলের আগা ফাটা সমস্যা দূর হবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে।

জেনে রাখুন
গোসলের পর চুল ঝাড়ার অভ্যাস থাকলে বাদ দিন। চুলের আগা ফাটার এটি একটি অন্যতম কারণ। প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানো উচিত নয়। এতে চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। গরম পানি চুলে দেওয়া উচিত নয়। এতে চুলের তন্তুগুলো ধীরে ধীরে আর্দ্রতা হারিয়ে চুল ফাটা শুরু হয়। ধীরে ধীরে বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। খেয়াল রাখুন আঁচড়ানোর সময় চুল যেন না ছিঁড়ে।