বৃহস্পতিবার থেকে কমতে পারে শীতের তীব্রতা

পৌষের শুরুতেও মিলছিল না শীতের দেখা। হা হুতাশ চারদিনে। কিন্তু মাসের শেষ প্রান্তে এসে শীত এতটা জেঁকে বসেছে যে এই প্রজন্ম তো দূরের কথা আগের প্রজন্মেরও দেখা হয়নি এতটা ঠান্ডা। আর শীত কমার অপেক্ষায় এখন মানুষ।কথায় আছে মাঘের শীতে বাঘ পালায়। কিন্তু বাঘ এবার কাঁপছে মাঘের আগেই। এরই মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ২.৬ ডিগ্রিতে।

কাঁপছে গোটা উত্তরের জনপদ। হিমেল হাওয়া গায়ে লাগছে চাবুকের মতো। দেশের অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা অতটা না কমলেও যতটুকু নেমেছে তাতে মানুষের বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের কষ্টের সীমা নেই।সেই তুলনায় রাজধানী তথা মধ্যাঞ্চলের পরিস্থিতি অতটা খারাপ নয়। কিন্তু কাল পরশু তারপাত্রা এই অঞ্চলেও কমবে কিছুটা। আবহাওয়ার পূর্বভাস বলছে, এরপর থেকে বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা।

সেই ২০১৬ সাল থেকেই আবহাওয়ার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক ঠেকেছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। ওই বছর তীব্র গরম আর বৃষ্টিহীনতায় খরায় ভুগেছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ডসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ। প্রচণ্ড পানির সংকটে ভুগেছে কোটি মানুষ। আর ২০১৭ সাল বলতে গেলে ছিল বৃষ্টির বছর। অতিবৃষ্টিতে বন্যা, জলাবদ্ধতায় ভুগেছে মানুষ, ফসলহানিতে বেড়েছে চাল-সবজির দাম।

আবার শরৎ, হেমন্তে তেমন বৃষ্টি না হলেও এই সময়ে তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিক উষ্ণ। আবার পৌষের মাঝামাঝিও হাড় কাঁপানো শীত না দেখে সামাজিক মাধ্যমে শীতের জন্য হাপিত্যেসও দেখা গেছে মানুষের।পৌষের শেষ দিকে শীত বাড়বে- পূর্বাভাস ঠিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের। তবে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ থাকবে-এমনটা জানায়নি তারা।

কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে বিশেষ করে উত্তরের জনপদ তীব্র শীত পড়তে শুরু করে। রাজধানী ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তামপাত্রা স্বরণকালের সবচেয়ে নিচে নেমে যায়।এর মধ্যে সোমবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নীলফামারীর ডিমলায় এটা ছিল ৩ ডিগ্রি ও দিনাজপুরে ৩.৬ ডিগ্রি।

শীতের জন্য অপেক্ষা ছিল যে মানুষগুলোর, তারা এখন শীত কবে যাবে সে অপেক্ষায়।এই প্রশ্ন নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, শীতের তীব্রতা থাকবে গোটা জানুয়ারি জুড়েই। তবে বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্র কিছুটা বাড়তে পারে।

এত বেশি শীত পড়ার কারণ কী-জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এইবার অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে মৌসুমি বায়ু এখনও সচল রয়েছে। এ কারণে এবার ঠান্ডা বেশি অনুভব হচ্ছে।’

এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে-এমন প্রশ্নে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে বরাবরই প্রতিবছর শীত কিছুটা বেশি থাকে। এবারও পুরোমাস জুড়ে এই পরিস্থিতি থাকবে। তবে এরই মাঝে কিছুদিন পরপর তাপমাত্রা উঠানামা করবে।’

ঢাকার অবস্থা কী হবে-এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার ঢাকার তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমে গিয়ে ৯ দশকি ৩ মাত্রায় এসে ঠেকতে পারে।’-ঢাকাটাইমস