ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, ৭ দিনে ২৯ জনের মৃত্যু

গত সাত দিন ধরে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। এতে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তবে সোমবারের তীব্র শৈত্যপ্রবাহ যেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য চরম রুদ্ররূপ নিয়ে আসে।

সর্বশেষ ৩ ডিগ্রির নিচে পারদ নেমেছিল ১৯৬৮ সালে। এবার নামল তারও নিচে। সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭০ বছর আগে তাপমাত্রার রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে এটাই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

১৯৪৮ সাল থেকে তাপমাত্রার তথ্য সংরক্ষিত আছে আবহাওয়া অধিদপ্তরে। সেই থেকে দেশের তাপমাত্রা এত নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনা কখনই ঘটেনি। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এর আগে ১৯৬৮ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে, ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১৯৬৪ সালেও শ্রীমঙ্গলে ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১৩ সালে সৈয়দপুরে ৩ ডিগ্রি ও দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কয়েক দিন ধরেই দেশের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর তীব্রতা আবার উত্তরাঞ্চলে বেশি। কনকনে ঠাণ্ডায় উত্তরের জনপদ তাই অনেকটাই স্থবির। ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে এসব এলাকায়।

শীতের এ তীব্রতা আরো দুদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, ১০ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। তারপর আবার শীত পড়বে। জানুয়ারিতেই আরো কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার এ বিরূপ আচরণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য যেসব প্রভাব ক্রমান্বয়ে দেখা দিচ্ছে, এটি তার প্রাথমিক স্তর।

শীত কিংবা বর্ষার অনিশ্চিত উপস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঘটছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের প্রবাহ শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। এটি স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও এখানে বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

শীতের এ তীব্রতায় জনজীবনে স্থবিরতার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ফসলহানির আশঙ্কাও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃতির এ বিরূপ আচরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিতে পড়তে পারে বোরো বীজতলা।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো বীজতলা সবুজ রঙের পরিবর্তে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে। তেলজাতীয় ফসলে পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হতে পারে শীত মৌসুমের অন্যান্য ফসল আবাদও।

এদিকে, তীব্র শীতে একসপ্তাহে শীতজনিত রোগে মারা গেছেন ১১ জন তাদের বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

এর আগে চলমান শৈত্যপ্রবাহে রোববার পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফুলবাড়ীতে মজরউদ্দিন ও আহমদ আলী টাঙ্গুরা ধনী নামে দুই বৃদ্ধ মারা গেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারা গেছেন ১ জন। শনিবার কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার এক শিশুর মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।