আরো পড়াশুনা করতে চায় প্রতিবন্ধী ‘সুন্দরী’

মো: হামিদ, বগুড়া: প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাড়ি থেকে বের করে দিলেন দাদা। বাবা মা দু’জন মিলে শখ করে নাম রেখে ছিলো সুন্দরী। কিন্তু সুন্দরীর জীবন যে এরকম হবে কে জানতো! সুন্দরী সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জ, ত্যাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জন্মের পর থেকে তার জীবন হয়ে ওঠে সংগ্রামের। সুন্দরীর বয়স যখন ২ বছর তখন তার প্যারালাইজড হয়ে তার বাম হাত ও বাম পা অচল হয়ে পড়ে। সেখান হতে সে প্রতিবন্ধী হয়। আর সেখান থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামময় জীবন। সুন্দরী প্রতিবন্ধী হওয়ার পরেও ইউনিয়ন বা উপজেলা থেকে পাইনি কোন সাহায্য।

এদিকে সুন্দরীর বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সুন্দরীর বাবাকে ৩ বছর যাবৎ সিকল পড়িয়ে রাখা হয়। এ জন্য আয়-রোজগারের পথ ও বন্ধ হয়ে গেছে। সুন্দরীর মা বলেন ,আমাদের পরিবারে ৫ জন সদস্য আমার এক ছেলে দুইমেয়ে আর আমার স্বামী।

আমার স্বামী মানুষিক প্রতিবন্ধী সে কাজ করতে পারে না তাই আমি আমার মেয়ের জন্য পরিষদে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা চাইছিলাম কিন্তু তারা আমাকে কোন কার্ড দেয়নি। পরে আবার আমি আমাদের মেম্বারের কাছে একটি মাটি কাটা কাজ চাইছিলাম কিন্তু তারা আমাকে সে কাজও দেয়নি।

এদিকে সুন্দরী ক্লাস সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। তার লেখাপড়া খরচ ও বেড়ে গেছে আর এ কারণে সুন্দরীকে খরচ না দিতে পেরে সুন্দরীর মা সুন্দরীকে দাদা বাড়ি রেখে এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে ঢাকা চলে গেছে।

এদিকে সুন্দরীর চলার মতো একটি মাত্র উপায় ছিল। সরকারি উপবৃত্তি টাকা দাদাকে দিয়ে দাদাকে সান্তনা দিতো। কিন্তু সে টাকা মোবাইলে সিস্টেম করায় সে টাকার মোবাইল সুন্দরীর মার কাছে রয়েছে। আর এজন্য সুন্দরী সে টাকা দাদাকে না দিতে পেরে সুন্দরীর দাদা তাকে বাড়ি হতে বেড় করে দেয়।

আর এখন সে বগুড়া ধুনটে মথুরাপুর ইউনিয়নে মধুপুর গ্রামে খালু (গুলাপ) শেখের বাড়িতে আশ্রয় হয়েছে। সুন্দরীর মনে বড় আশা, সে শিক্ষিত হয়ে প্রতিবন্ধীদের সেবা করবে। সুন্দরীর দাবি করে বলেন যে আমাকে যেন উপজেলা থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।