আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সন্তানসহ টিভিতে এলেন সংবাদপাঠিকা

শিশু জয়নব, বয়স মোটে আট বছর। মঙ্গলবার পাকিস্তানের শহর কাসুরের এক আস্তাকুঁড়ে মেলে তার গলিত মৃতদেহ। মেরে ফেলার আগে ছোট্ট জয়নবকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো।

এই ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা কাসুর। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গেছে বিক্ষোভকারীদের দু’জন। এই প্রতিবাদে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের বড় বড় তারকারাও। তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভির উপস্থাপিকা কিরন নাজ। কিরন এদিন সংবাদ পাঠের সময় নিয়ে আসেন তার ছোট্ট শিশুকন্যাকে।

সন্তানকে কোলে নিয়ে কিরন বলেন, ‘আজ আমি উপস্থাপক কিরন নাজ নই। আজ আমি একজন মা। একারণেই আমার কন্যাকে কোলে নিয়ে আজ এখানে বসেছি।’

মূল সংবাদে যাওয়ার আগে দেড় মিনিট এক আবেগঘন বক্তব্য দেন কিরন, যেখানে তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে অভিহিত করেছেন ‘মানবতার মৃত্যু’ হিসেবে।

তিনি বলেন, ‘এই দেশে প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও সহিংসতায় একসাথে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। তারা কেন মরছে, কে তাদের মারছে- কেউ জানে না তা। কেউ এখন আর তার পরোয়াও করে না। কিন্তু যতো ছোট কবর, তার ভারও তত বেশি- এই প্রবাদটি আজ সত্য হয়ে উঠেছে আমাদের জন্য। ছোট্ট এক কবর আজ কাসুরের সড়কে উঠে এসেছে এবং গোটা পাকিস্তান তার ভারে আজ নিমজ্জিত।’

৪ জানুয়ারি কোরআন শিক্ষার পর বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় জয়নব। তার বাবা মা তখন মক্কায় ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তার লাশ উদ্ধার করা হয় ভাগাড় থেকে।

বুধবার দেশে ফিরে জয়নবের বাবা ঘোষণা দিয়েছেন, ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়ের দাফন করবেন না।

পাকিস্তানের কাসুরে গত দুই বছরে এই নিয়ে ১২ বার শিশু নিখোঁজ এবং হত্যার ঘটনা ঘটলো। বিক্ষুব্ধ নগরবাসীর দাবি, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনের কারণেই এখনও ধরা পড়ছে না হত্যাকারী।

সূত্র: বিবিসি, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস