ভারতের জন্য নতুন ফাঁদ দক্ষিণ আফ্রিকার

 

দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার মার্করাম বৃহস্পতিবার অনুশীলনের পর সুপার স্পোর্টস পার্কের উইকেট নিয়ে সদর্থক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যারা ফাস্ট বল খেলতে পারে, তারা এই উইকেটে ব্যাটিং উপভোগ করবে। তিনি বলেছেন, সাধারণভাবে সেঞ্চুরিয়ানের উইকেট পেস সহায়ক হলেও বল ব্যাটে আসে। তাই স্ট্রোক প্লেয়াররা এই উইকেটে বড় ইনিংস খেলতে পারে।

অতীতে এটা বারবার প্রমাণ হয়ে গেছে। আমরা অনেক হাই স্কোরিং ম্যাচ এই মাঠে প্রত্যক্ষ করেছি। আমার ধারণা, কিউরেটর বেশ ভালো স্পোর্টিং উইকেট উপহার দেবেন। বলতে পারেন, নিউল্যান্ডসের মতোই উইকেট হবে এটি। আমি নিজে খুব উত্তেজনা অনুভব করছি দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নামার আগে। কারণ ছোটবেলা থেকে এই মাঠে খেলা দেখে বড় হয়েছি। এখানেই আমার জন্মকর্ম। তাই ঘরোয়া দর্শকদের সামনে খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। তবে দুই দলের ফাস্ট বোলাররাই নতুন বল হাতে বেশ ভালোমতই পেস ও বাউন্স আদায় করে নিতে পারবে এই উইকেট থেকে।’

২৩ বছর বয়সি মার্করামের এটি এক অর্থে ঘরে ফেরা। এটি তার কেরিয়ারের পঞ্চম টেস্ট ম্যাচ। একসময় দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুনিয়র দল থেকে সিনিয়র দলে উত্তরণ বেশ কঠিন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরতে হয়। এই পর্বে অনেককিছু শিখেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের সান্নিধ্য পেয়েছি এই পর্বে। তবে ভারতীয় দলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা এই প্রথমবার করার সুযোগ পেয়েছি। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই আমি রান পাইনি। তাই দ্বিতীয় টেস্টে বড় ইনিংস খেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছি।’

কেপ টাউনে দুই ইনিংসে মার্করামের স্কোর ছিল ৫ ও ৩৪ রান। নিউল্যান্ডসের পেস সহায়ক উইকেটে ভারতীয় বোলাররা দাপটে বল করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস বেশি প্রলম্বিত করতে দেয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপারস্পোর্ট পার্কের উইকেটের উপর থেকে আচ্ছাদন সরিয়ে ফেলা হয়। তখনও পিচে সবুজ ঘাস ভালোমতই রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে হার্ড এবং বাউন্সি উইকেট হবে দ্বিতীয় টেস্টে।

এদিকে আহত ডেল স্টেইনের বদলে কথা চলছে স্থানীয় প্রতিভা লুঙ্গি এনগিডিকে নেওয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কোচ ওটিস গিবসন চাইছেন, দ্রুতগামী উইকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জব্দ করতে। আর এই কাজে তার দলের একনম্বর বোলার কাগিসো রাবাডার দিকে তিনি তাকিয়ে রয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে মার্করাম বলেন, ‘ইতিমধ্যেই রাবাডা বিশ্বমানের বোলার হয়ে উঠেছে। ওই এখন আমাদের দলের এক্স ফ্যাক্টর। ও ব্যাটসম্যানদের ক্রমাগত অস্বস্তিতে রাখতে পারে। তবে নতুন পেসার লুঙ্গিও খুবই প্রতিভাবান। আমরা দু’জনে একসঙ্গে খেলেছি ওর এবার সুযোগ পাওয়া উচিত। এতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট টিনে ঢোকার জন্য। এবার যদি ও দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পায় তবে ওর প্রতিক্ষা সার্থক হবে।’ নয়া দিগন্ত অনলাইন