বলিউডের তোতলা গ্রিক গডের আত্মকাহিনী

কথা বলা শেখার পর থেকেই তিনি তোতলা। ঠিকমত কথা বলতে পারতেন না। বাবা নামকরা ফিল্ম ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে টুকটাক কাজ করতেন ফিল্ম সেটে।এই তোতলা ছেলেই একদিন সাহস করে তার বাবাকে বলে ফেললেন, “আমি অভিনেতা হতে চাই।” এই কথাটা বলতেও তার পাক্কা দুই মিনিট সময় লেগেছিল!

তোতলা ছেলের কথা শুনে বাবা অবাকই হলেন! অবাক হবেনই বা না কেন? সে অভিনেতা হতে চায়, এই সামান্য কথাটাই বলতে সে এতবার আটকেছে, অভিনেতার মত ডায়ালগ ডেলিভারী দিতে না জানি তার কি হয়! স্বাভাবিক ভাবেই বাবা বললেন, “এই সামান্য কথাটাই বলতে পারছো না তুমি, অভিনেতা কিভাবে হবে?”

ছেলে তাই ডাক্তারের কাছে গেলো। ডাক্তারও হতাশ করলো তাকে। বলল, অভিনয় তার দ্বারা সম্ভব না। অন্যকিছু ট্রাই করুক সে। এদিকে অত্যাধিক হেংলা-পাতলা হওয়ার কারণে নিজেও কিছুটা দমে আসলেন। কিন্তু এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না তিনি।

যে জিনিস তার দ্বারা সম্ভব হবে না বলেছে মানুষজন, সেটাকেই সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ নিলেন তিনি। প্যাশন বলে কথা…এরপরের কথা সবার জানা। ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ তার প্রথম সিনেমা ছিল! সেটা দিয়েই এই তোতলা ব্যক্তি নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন।

বলিউডের অন্যতম সুদর্শন ও সুঠামগঠনের অভিনেতা হিসেবে তাকে আজ চিনে সবাই। খুব সুন্দর একটা ডাকনাম ও আছে তার। “বলিউডের গ্রিক গড”।এতক্ষন যার কথা বলছিলাম তিনি আর কেউ নন, হৃতিক রোশান!

নিজের প্রচন্ড মনোবলের জোরে, তোতলামীর মত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিজেকে যিনি আজ বলিউডের অন্যতম সফল একজন অভিনেতা হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। প্যাশন থাকলে কি সম্ভব না – এই কথাটার জলজ্যন্ত প্রমাণ তিনি।

একটা সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এখনো নাকি তিনি তোতলা। কিন্তু সিনেমার ডায়ালগ ডেলিভারীর সময় সেই তোতলামী নাকি উধাও হয়ে যায়। সেই স্থান দখল করে নেয় তার দূর্দান্ত ডায়ালগ ডেলিভারী! আসলেই তো, দর্শকের তার কোন সিনেমা দেখে মনে হয়েছে যে তিনি তোতলা?