বিবাহিত নারীরা যেসব “অদ্ভুত” কারণে নিজেকে দোষী মনে করে থাকেন !

আবেগ, ভালোবাসা এবং সমঝোতার দিক দিয়ে নারীরা বেশীই এগিয়ে থাকেন পুরুষের তুলনায়। নারীদের মধ্যে আবেগটা একটু বেশীই কাজ করে থাকে। এবং সৃষ্টিকর্তা যেন তৈরি করার সময় ভালোবাসাপূর্ণ মন দিয়েই নারীদের তৈরি করেছেন। জীবনের সব ক্ষেত্রেই অনেক কিছু মেনে নেয়ার কষ্টটা শুধুমাত্র নারীদেরই করতে হয়। পুরুষদের যে করতে হয় না তা নয়। কিন্তু নারীদের জন্য মেনে নেয়ার কাজটা একটু বেশীই করতে হয়।

বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নারীদের যে দ্বিতীয় জীবন শুরু হয় সে জীবনে আরও অনেক ধরণের বাঁধা বিপত্তি এসে হাজির হয়। তারপরও নানা বাঁধা অতিক্রম করে সাহসী পথ চলেন অনেক নারীই। কিন্তু বিবাহিত নারীরা নিজেদের মনে অনেক কিছুই চেপে রাখেন। তার মধ্যে কিছ বিষয় রয়েছে যা তাদের নিজেরদের দোষী ভাবতে বাধ্য করে। গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৯৬ শতাংশ নারী এই সকল কারণে নিজেকে দোষী ভাবেন।

বাচ্চাদের সাথে বেশি সময় কাটাতে না পারা
একজন নারী যখন মা হয়ে যান তখন তার সারাটিক্ষন নিজের সন্তানের প্রতি মন পরে থাকে। কিন্তু সংসারের নানা কাজ সামলে উঠে নিজের বাচ্চাটিকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না অনেক মায়েরাই। চাকুরীজীবী মহিলাদের জন্য তো এটি আরও কঠিন একটি সময়। বাচ্চার সাথে বেশি সময় না কাটাতে পারার কারণে সব সময় নারীরা নিজেদের দোষী ভাবেন।

সঙ্গীকে খুশি করতে না পারা
প্রত্যেকটি নারীই চান তার সঙ্গী খুশি থাকুন তার সাথে। এবং এরজন্য নারীরা অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু যখন সঙ্গীর মন খারাপ থাকে তখন অন্যকিছু না ভেবে নিজের ওপরেই দোষ ফেলে দেন প্রায় ৮০% নারী। ভেবে থাকেন তার কোনো কাজে বা কারণে তার সঙ্গীর মন খারাপ। এই কাজটি বিবাহিত মহিলারাই বেশি করেন।

ওজন কমাতে না পারা
গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৭০% মহিলা নিজের বাড়তি ওজনটুকু কমাতে না পারার দোষ সম্পূর্ণ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। কিন্তু হতে পারে তার মুটিয়ে যাওয়ার কারণ অপুষ্টি জনিত সমস্যা অথবা অন্যান্য কোনো কারণ।

তৈরি হতে বেশি সময় নেয়া
পুরুষেরা সব সময় বলেন মেয়েরা তৈরি হতে বেশি সময় নেন। কথাটি সত্য। কিন্তু কি কারণে? একজন নারী যখন তার স্বামীর সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে যান তখন তার মাথায় থাকে তার স্বামীর চোখে তিনিই যেন সব চাইতে বেশি সুন্দরী হোন। এইকারনে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হন অনেক নারী। এবং পরে নিজের সঙ্গীর রাগান্বিত এবং বিরক্তি নিয়ে তাকানোতে নিজেকে অনেক বেশি দোষী ভাবা শুরু করেন।

ঠিক মতো অথিতি আপ্যায়ন করতে না পারা
নারীরা অথিতিদের প্রতি যতোই আপ্যায়নের কাজগুলো করুন না কেন প্রায় ৫৫% নারী নিজেকে দোষী ভাবেন এই কারণে যে তিনি ঠিক মতো আপ্যায়ন করতে পারেননি। কিংবা মনের মতো করে আপ্যায়ন করা হয়ে উঠেনি।

কাজের জন্য সময় বের করতে না পারা
বিবাহিত নারীদের দিনের শুরু থেকে রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। যারা চাকুরী করেন এবং যাদের বাচ্চা রয়েছে তাদের তো আরও বেশি সময় ব্যয় করতে হয় ব্যস্ত থেকে। এতোসবের মধ্যে যখন নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না তখন অনেক নারীই নিজেকে দোষী ভাবেন। ভাবেন আর একটু সময় বের করে এই কাজটি করে ফেলা উচিৎ ছিল।

নিজের বাবা মায়ের দিকে নজর রাখতে না পারা
গবেষণায় দেখাযায় প্রায় ৯৯% বিবাহিতা নারীরা একটি কারণে নিজেকে খুব বেশি দোষী ভাবেন। তা হলো নিজের বাবা মায়ের প্রতি খেয়াল রাখতে না পারা। বিয়ে করে নিজের সংসারে চলে যাওয়ার পর ব্যস্ততা এবং শ্বশুরবাড়ির কারণে অনেক সময়েই মনের মতো করে নিজের বাবা মায়ের জন্য কিছু করতে পারেন না অনেক নারীই। যা প্রতিনিয়ত তাদের কুড়ে কুড়ে খায়। অনেক মানসিক অশান্তিতে থাকেন নারীরা এই একটি কারণে।