‘পদ্মাবত’ মুক্তি পেলে আগুনে ঝাঁপের হুমকি শতাধিক মহিলার

বন্ধ হোক পদ্মাবত ছবি প্রদর্শন। এই ছবি মুক্তি পেলে আমরা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হব। এমনই হুমকি দিলেন চিতোরের মহিলাদের একাংশ। ফলে ছবির মুক্তির বিষয়টি আরও জটিল আকার নিয়ে ফেলল।প্রশাসনের আশঙ্কা, তেমন কিছু ঘটে গেলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হবে।

কারণ পদ্মাবতী তথা রানি পদ্মিনীকে নিয়ে রাজপুত আবেগ প্রবল।আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করা রাজস্থানী ক্ষত্রিয় তথা রাজপুত মহিলাদের মধ্যে একটি প্রাচীন প্রথা। কথিত আছে, আলাউদ্দিন খিলজির হাত থেকে বাঁচতে চিতোরের রানি পদ্মিনী জহরব্রত পালন করেছিলেন। সেই ঘটনার কারণেই তিনি দেবীতুল্য।

পদ্মাবতী নাম পাল্টে পদ্মাবত নামে নতুন করে ছবি মুক্তির দিন ধার্য হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি এই ছবি মুক্তি পাচ্ছে। আর ১৭ জানুয়ারি থেকে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হবে এমনই হুমকি বিভিন্ন ক্ষত্রিয় সংগঠনের। চিতোরে বিশেষ বৈঠক করে এই সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ।

তাতে অংশ নেন শতাধিক মহিলা। সেখান থেকেই প্রকাশ্যে জহরব্রত বা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণের হুমকি দেন।চিতোরে সর্বাত্মক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে, গোঁড়া রাজপুত সংগঠন কারনি সেনা। তাদের দাবি, এই ছবি রানিকে অপমান করতেই বানানো হয়েছে।

ছবিতে আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে পদ্মিনীর প্রেমের সম্পর্ক দেখিয়েছেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশলী। যদিও পরিচালক এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়েছেন।বিতর্কের জেরে একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে শ্যুটিং টিম। পিছিয়ে গিয়েছে মুক্তির দিন। শেষপর্যন্ত নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মাবতী’ হয়েছে ‘পদ্মাবত’।

এরপরেও বিক্ষোভ থামার লক্ষ্মণ নেই। রাজস্থান জুড়ে চলছে বিতর্ক।ছবি প্রদর্শন বন্দের দাবিতে রাজস্থানের একাধিক কেল্লায় বিক্ষোভ করে কারনি সেনা। বন্ধ করা হয় বিভিন্ন কেল্লার ফটক। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সেখানে প্রবেশ করেতে পারেন নি।

ধাক্কা খেয়েছে পর্যটন শিল্প। রাজ্য সরকার নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত।