প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিয়াজ-শাওনের অনুরোধ !

প্রসিদ্ধ যশোর রোডে (যশোর থেকে কলকাতা) নড়াইলের জমিদার কালিবাবুর তত্ত্বাবধানে লাগানো প্রাচীন গাছগুলোর মধ্যে অল্পকিছু এখনও টিকে আছে। এগুলোর আয়ু শেষের পথে। এদিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে দুই পাশের আড়াই হাজারেরও বেশি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্যদের মতো শিল্পীসমাজও অবস্থান নিয়েছে। এরই মধ্যে কবীর সুমনের মতো ব্যক্তিত্বও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের যুক্তি, যশোর রোড এবং এখানকার শতবর্ষী বৃক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী। এই বৃক্ষ কেটে ফেললে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক দুর্লভ স্মৃতিও হারিয়ে যাবে চিরতরে।

এই ধ্বংস বাঁচাতে চিত্রনায়ক রিয়াজ নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গাছ আমাদের পরম মমতায় দেয়। শীতল ছায়া, ফল, ফুল ও নির্মল বাতাস দেয়।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একজন মমতাময়ী মায়ের কাছে ২০০০+ গাছের জীবন ভিক্ষা চাই।’তার সাথে গলা মিলিয়েছেন হুমায়ূন পত্নী। তিনি বলেছেন, আমি কখনো এই সড়কটিকে দেখিনি।

কিন্তু ইতিহাসের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এসব বৃক্ষের অনাবিল সৌন্দর্যের কথা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সড়ক ধরে শরণার্থীরা সীমানা পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। যে সড়কটিকে না দেখে এতটা সম্মানবোধ ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, সে সড়কটির মৃত্যুর খবর আমাকে ব্যথিত করে।

আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের প্রকৃতিবিরুদ্ধ বিষয়কে সমর্থন করেন না, তিনি মমতাময়ী। প্রত্যাশা করি তিনি এ গাছগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করবেন। চার লেনের রাস্তার জন্য নিশ্চয়ই বিকল্প ব্যবস্থা আছে। আর উপায় না থাকলেও উপায় বের করা তো নীতিনির্ধারকদেরই কাজ।