৮টি লক্ষণে চিনে নিন একজন “মিথ্যাবাদীকে” !

যে কেউ, যে কোনো কারণে মিথ্যা কথা বলতে পারেন। মাঝে মাঝে অনেকে প্রয়োজনে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকেন। আবার মাঝে মাঝে মানুষ অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র নিজেকে বড় মাপের কেউ হিসেবে জাহির করার জন্যও মিথ্যা বলে থাকেন। মোটকথা হলো মানুষ মাত্রই মিথ্যা বলেন। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর যিনি জীবনে একটিবারও মিথ্যা বলেননি।সমস্যা হলো এই মিথ্যা বলাটা বোঝা নিয়ে।

অনেকেই আছেন তার সামনের মানুষটি মিথ্যা বলছেন কি বলছেন না তা চট করে ধরে ফেলতে পারেন। আবার অনেকে একেবারেই বুঝতে পারেন না কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা। মিথ্যাবাদীর ধরা পড়বেন কি পড়বেন না তা মিথ্যা বলার কলা কৌশলের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। কিন্তু কিছু কিছু লক্ষণ রয়েছে যা মিথ্যেবাদী চাইলেও লুকোতে পারেন না।

এই লক্ষণগুলোতেই বুঝে নেয়া যায় সামনের মানুষটি মিথ্যা বলছেন কি বলছেন না।

১) চোখে চোখে না তাকানো
যিনি মিথ্যা বলছেন তিনি সহজে আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবেন না। তার মনে হবে আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে তিনি যে মিথ্যা বলছেন তা আপনি ধরে ফেলতে পারবেন। তিনি আপনার চোখের দিকে না তাকিয়ে নিচে অথবা অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলবেন। আবার অনেকে আছেন যারা মিথ্যেটাকে বিশ্বাসযোগ্য সত্যি করার জন্য চোখে চোখে তাকিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু তখন তিনি চোখের পলক কম ফেলবেন।

২) কথার মাঝে অদ্ভুত শব্দের প্রয়োগ
আপনি যার সাথে কথা বলছেন তার কথা বলার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি তিনি কোনও বিরতি ছাড়া একেবারে গড়গড় করে কথা বলে যান এবং মাঝে মাঝে ‘আম, উম’ এই ধরনের শব্দ করেন, তাহলে সেটাও একটা মিথ্যা বলার লক্ষণ হিসেবে ধরতে পারেন।

৩) প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন
তার মিথ্যের কাহিনীর মাঝে আপনি যদি কোনো প্রশ্ন করেন তিনি তার কথার খেই হারিয়ে ফেলবেন। এবং আপনার প্রশ্নের বিপরীতে আপনাকেই প্রশ্ন করে বসবেন। হয়তো দেখা গেল আপনি কোনো প্রশ্ন করলেন তার উত্তর দেয়ার বদলে তিনি আপনাকে প্রশ্ন করলেন ‘তুমি/আপনি কীভাবে জানেন?’ ।

৪) অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি
যিনি মিথ্যা বলছেন তার অঙ্গভঙ্গির দিকে লক্ষ্য করুন। চোখের পাতা বেশ দ্রুত ও ঘন ঘন ফেললে, কথা বলার মাঝে হঠাৎ গলার স্বরে পরিবর্তন আসলে, কিংবা হাত গুটিয়ে মুঠ করে রাখলে অথবা হাত আড়াআড়ি বুকের ওপর রেখে কথা বললে অথবা তার আচার আচরণের সাথে যায় না এমন কোনো অদ্ভুত আচরণ করলে বুঝে নেবেন তিনি মিথ্যে বলছেন।

৫) মুখের ভাবের পরিবর্তন
মিথ্যা বলার আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে মুখের ভাব পরিবর্তন। লক্ষ্য করে দেখুন তো যিনি কথা বলছেন তিনি কি কথা বলার সময় চোখের ভ্রু উপরের দিকে তুলছেন কি? মিথ্যা বলার সময় স্বাভাবিকভাবেই ভ্রু নড়াচড়া করার মাত্রা বেড়ে যাবে এবং তিনি অযথাই হাসবেন। হয়তো এমন একটা সময়ে হাসলেন যখন হাসার কোনও কারণ নেই।

৬) প্রতিবাদের সুর
কথায় বলে না চোরের মায়ের বড় গলা ব্যাপারটি ঠিক তেমনই। আপনার ছোট্ট কোনো কথা বা প্রশ্নের বিপরীতে যদি তার কণ্ঠে প্রতিবাদের সুর বেশ চড়া ভাবে ধরা পরে তবে বুঝে নেবেন তিনি মিথ্যা বলছেন। এবং তিনি শুধুমাত্র তাত গলার জোরে মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তরিত করতে চাইছেন।

৭) একেকবার একেক ধরণের কথা
যদি আপনার সন্দেহ হয় আপনার সামনের মানুষটি মিথ্যা বলছেন তবে আপনি তাকে একই জিনিস বারবার বলতে বাধ্য করুন। একই প্রশ্ন বারবার করুন। যদি তার আগের কথার সাথে পরের কথার মিল খুঁজে না পান তবে বুঝে নেবেন তিনি আসলেই মিথ্যে বলছেন।

৮) সাফাই দেয়া
যিনি মিথ্যা কথা বলছেন তিনি চাইবেন আপনি যাতে ধরতে না পারেন তার কোনো কথা। সেকারণে তিনি সব কথার পেছনে যুক্তি দাঁড় করাবেন। এবং আপনি কোনো প্রশ্ন করার আগে আগেই সাফাই দেয়ার মতো করে উত্তর করার চেষ্টা করবেন।