পাঁচটি লক্ষণে নির্ণয় করুন মানসিক চাপ , জেনে নিন সমাধান

সারা দিন আপনার কোনো বিশ্রাম হয়নি। তার পরেও রাতে ঘুম হচ্ছে না। কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই পিঠে ব্যথা হচ্ছে। এর কারণ কোনোভাবেই খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে এ লেখায় দেওয়া পাঁচটি পয়েন্ট বিবেচনা করুন। হয়তো ভিন্ন কোনো কারণে হচ্ছে আপনার এ সমস্যা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

১. ঘাড় কিংবা পিঠে ব্যথা
ঘাড় কিংবা পিঠ ব্যথার যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলে মানসিক চাপের কথা ভেবে দেখতে পারেন। আপনার এ ব্যথার মূল হয়তো লুকিয়ে আছে মানসিক চাপের মাঝে। মানসিক চাপের কারণে আপনার ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।

২. হজম ও পরিপাকতন্ত্রে গণ্ডগোল
আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে হজমের গণ্ডগোলে ভুগছেন। তাহলে জেনে নিন, মানসিক চাপের কারণে হতে পারে হজমে গণ্ডগোল।

৩. কোনো বিষয় মন থেকে দূর করতে না পারা
আপনাকে যদি কোনো একটি সমস্যা মানসিকভাবে ভোগাতে থাকে। কিংবা অনেক চেষ্টা করেও কোনো বিষয় মন থেকে দূর করতে না পারেন, তাহলে এর কারণ হিসেবে ভিন্ন কোনো বিষয় চিন্তা করতে পারেন। যার মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ।

৪. ভুল করা ও মনোযোগের অভাব
কাজের সময় আপনি কি যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছেন না? আপনার কি কাজে প্রচুর ভুল হচ্ছে? আর এর চাপে ভুলের পরিমাণ আরো বেড়ে যাচ্ছে? তাহলে এ সমস্যার সমাধান করতে পারে মানসিক চাপ কমানো। কারণ মানসিক চাপের কারণেই এমন সমস্যা হয়।

৫. ঘুমের সমস্যা
আপনার যদি রাতে ঠিকমতো ঘুম না হয় কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার পর দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে তাহলে কোনো সন্দেহ নেই যে, সমস্যা গুরুতর। আর এ সমস্যার মূলে রয়েছে আপনার মানসিক চাপ।

সমস্যার কারণ
আপনার এ মানসিক চাপের কারণ হিসেবে থাকতে পারে দুটি বিষয়।

১. মানসিক সংকট
কেউ যদি জীবনে নানা সমস্যার মোকাবেলা করে এবং তাতে কোনো সাফল্য না পায় তাহলে এ সমস্যা হতে পারে। এতে নিজের কর্মক্ষমতার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

২. ছোটবেলার সমস্যা
সাত বছর বয়সের মধ্যে যদি কারও জীবনে নানা সমস্যা তৈরি হয় হয় তাহলে এমনটা হতে পারে। শিশুদের জন্য এ সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়কার সমস্যা কাউকে ভবিষ্যৎ জীবনে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে।

সমাধান
অনেক সময় সহজ কিছু সমাধানেও কঠিন বহু সমস্যা কেটে যায়। তাই এ সমাধানগুলো আগে চেষ্টা করুন।

১. আলোচনা
যেকোনো সমস্যার সমাধানের পথ আলোচনার মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তা সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
সুস্থ দেহ মানে সুস্থ মন। এ কারণে সুস্থ মন গড়ে তোলার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাগ গড়ে তুলুন।

৩. উপযুক্ত ঘুম
আপনার দেহ ভালোভাবে বিশ্রাম করার সুযোগ পেয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। এজন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

৪. মাংসপেশি শিথিল করা
আপনার শরীরের মাংসপেশিগুলো টানটান থাকা মানে আপনি চাপে আছেন। এ সমস্যা মোকাবিলায় আপনার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে যোগাসন ও ধ্যান।