ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আরো একটি লজ্জার রেকর্ড গড়লো টাইগাররা

লঙ্কানদের দেয়া ৩৩৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই ওপেনার তামিম ইকবালকে হারায় স্বাগতিকরা। দিলরুয়ান পেরেরার বলে মাত্র ২ রানে ফিরে যান তামিম। ১৭ রানে হেরাথের শিকার হন ইমরুল।

মুমিনুল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও লঙ্কানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়তে পারেননি। ইনিংসসেরা ৩৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এছাড়া ২৫ রান করেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের সবশেষ ছয় ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক।

চতুর্থ ইনিংসের ত্রিশতম ওভারে তাইজুল ইসলামকে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সাড়ে চারশতম শিকারে পরিণত করেন রঙ্গনা হেরাথ। এখানেই শেষ হয় মিরপুর টেস্ট। ২১৫ রানের বড় হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই হারের সঙ্গে দুই ম্যাচ সিরিজটি ১-০ তে জিতে নিলো চান্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

জিততে হলে রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো বাংলাদেশে। রেকর্ড গড়া তো দূরের কথা, লঙ্কান স্পিনের সামনে দাঁড়তেই পারলেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২৩ রানেই অসহায় আত্মসমর্পণ করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বাহিনী।

বলতে গেলে টেল এন্ডারদের একাই ধসিয়ে দেন আকিলা ধনঞ্জয়। তার পাঁচ উইকেটের সঙ্গে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন রঙ্গনা হেরাথ।

এরআগে প্রথম ইনিংসে ২২২ রান করা সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে করে ২২৬। অপরদিকে নিজের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন শ্রীলঙ্কার রোশান সিলভা।

এদিকে সিরিজে সর্বোচ্চ রান এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার। ৩১৫ রান করা মুমিনুল হক সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল ইসলাম, ১২টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ২২২/১০ (কুশাল ৬৮, রোশান ৫৬; রাজ্জাক ৪/৬৩, তাইজুল ৪/৮৩)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০/১০ (লিটন ২৫, মিরাজ ৩৮*; লাকমল ৩/২৫, ধনঞ্জয় ৩/২০)

শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৬/১০ (করুণারত্ন ৩২, রোশান ৭০*; তাইজুল ৪/৭৬, মোস্তাফিজ ৩/৪৯)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১২৩/১০ (মুমিনুল ৩৩; ধনঞ্জয় ৫/২৪, হেরাথ ৪/৪৯)

শ্রীলঙ্কা ২১৫ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা রোশান সিলভা।