ফুলবাড়ীতে বিজিবি’র জব্দকৃত সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২৩হাজার বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদকদ্রব্য ধ্বংস

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের হাতে জব্দকৃত তিন কোটি ২৯লাখ ৪৯হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য গতকাল রবিবার সকালে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনিসুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস.এম রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মাদ্রকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনিসুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম, দিনাজপুর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. গোলাম রব্বানী প্রমূখ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিজিবি দিনাজপুর ৪২ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. আব্দুল হান্নান খান, বিজিবি দিনাজপুরের অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) এএসএম রবিউল হাসান প্রমূখ।

শেষে বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিন বিভিন্ন সীমান্তে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক ২২হাজার ৪৫৪বোতল ফেন্সিডিল, ৮৪২বোতল বিদেশি মদ, ১৬৪প্যাকেট বিদেশি মদ জুস, ৩৬০লিটার দেশি মদ (চোলাই মদ), ৮৫বোতল বিয়ার, ১৮দশমিক ২৩০কেজি গাঁজা, ৮৫কেজি মদ তৈরির বড়ি, ১৯হাজার ৮৩৫ বোতল বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক সিরাপ, ৩৯পিস ইয়াবা বড়ি, ১লাখ ১৮হাজার ৪৩১পিস যৌন উত্তেজক বড়ি, ১৯হাজার ১৭৮পিস নেশা জাতীয় ইঞ্জেকশন বুল ড্রেজারের সাহায্যে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য তিন কোটি ২৯লাখ ৪৯হাজার টাকা।

বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস.এম রেজাউর রহমান বলেন, বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রায়ই মাদক ও চোরাকারবারিদের হাতে বিজিবি সদস্যদেরকে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে অভিযান চালিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধ করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে বিজিবি সদস্যরা চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখে সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করে যাবেন।