কেউ নির্বাচনে না এলে কিছু আসে যায় না : এরশাদ

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় কিছুই বলছেন না জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল এর পক্ষে-বিপক্ষে সরব; কিন্তু জাপা একেবারেই নীরব। রায়ের পর গতকাল সোমবার প্রথম প্রকাশ্য সভায় বক্তৃতা করেন এরশাদ; কিন্তু একটি শব্দও ব্যয় করেননি খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে।

গতকাল রাজধানীর ভাসানটেক বাজার, ধামালকোর্ট ও কচুক্ষেতে পৃথক তিনটি পথসভা করে ঢাকা-১৭ আসনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন জাপা  চেয়ারম্যান। নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন এ আসনের সাবেক এমপি এরশাদ।

এরশাদ বলেন, আগেও ঢাকা-১৭ আসনের বাসিন্দাদের পাশে ছিলেন। অনেক উন্নয়ন করেছেন; কিন্তু বর্তমান এমপিকে কেউ খুঁজে পায় না। ভোট প্রার্থনা করে এরশাদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন তার জীবনের শেষ ভোট। শেষ ভোটে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হতে চান। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, কে নির্বাচনে এলো, না এলো তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। গণতন্ত্রের মূল বক্তব্যই হলো নির্বাচন। জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই ভোটে অংশ নেবে।

মহাজোটের মনোনয়নে নবম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ (বনানী, গুলশান, বারিধারা) থেকে নির্বাচিত হন  এরশাদ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থন পান; কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়, এরশাদও সরে দাঁড়ান। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এ আসন থেকে জয়ী জন বিএনএফ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও, তিনটি পথসভার একটিতেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি এরশাদ। তার দলের নেতারাও এ ইস্যুতে নীরব থাকেন। সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে উত্তর দেননি।

পথসভায় এরশাদের পাশে ছিলেন জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

সূত্র: সমকাল