কিডনি পাথর রোধে সহজ ৬ উপায়

প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন কিডনির পাথরে ভোগেন। এই পাথর আকারে ক্ষুদ্র শস্যদানা থেকে শুরু করে টেনিস বল আকৃতির পর্যন্ত হতে পারে।তবে কিডনির পাথর সাধারণত আকারে ছোট হয়ে থাকে। কিডনির ভেতরে কঠিন পদার্থ জমা হয়ে পাথর হয়। সাধারণত খনিজ এবং অম্ল লবণ দিয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি হয়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই ছোট পাথরগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়।শরীর থেকে কিডনি পাথর সরানোর জন্য আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসার মাধ্যেমে খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।যার ফলে পাথর দ্রবীভূত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

এর প্রস্তুতি হিসেবে সহজ ৬ টি পদ্ধতি তুলে ধরা হলো… যা আপনি ঘরোয়াভাবে করতে পারবেন।

 

১. খাদ্য এবং পুষ্টি- আপনার খাদ্যতালিকায় তরল খাওয়া গ্রহণের পরিবর্তন করে কিডনি পাথর প্রতিরোধ করতে পারেন। এছাড়াও কিডনি পাথর প্রতিরোধ করতে কিছু খাবার কম পরিমানে খেতে হবে যেমন, সোডিয়াম, অ্যানিমেল প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং oxalate সমৃদ্ধ খাবার।

২. কলা গাছের থোড়ের রস- কলা গাছের থোড় থেকে নিষ্কাশিত রস কিডনি পাথরের জন্য একটি চমৎকার প্রতিকার। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হিসাবে কাজ করে। আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এই রস গ্রহণ করতে পারেন।

৩. পঞ্চকর্মা থেরাপি- পঞ্চকর্মা থেরাপি হচ্ছে যোগাআসনের একটি পদ্ধতি। এই যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণভাবে শরীরকে শুদ্ধ করার একটি কার্যকর উপায়। এটি কিডনি পাথর থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

৪. তুলসি পাতা- কিডনির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য তুলসি পাতা ভালো। এক চামচ মধু দিয়ে এক টেবিল চামচ তুলসি পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এটা মূত্রনালীর মধ্য দিয়ে পাথরের সহজ নির্বাহ সাহায্য করে।

৫. পানীয় জল- প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করলে আপনার ঠিকমতো প্রস্রাব হবে। আর এতে কিডনি পাথর ভেঙ্গে বা দ্রবীভূত করতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দৈনিক ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ উপযুক্ত পরিমাণে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায় এবং কিডনির পাথরের ঝুঁকি এবং জটিলতা কমিয়ে আনে।

৬. টমেটো জুস– প্রতিদিন সকালে লবণ এবং মরিচের গুঁড়ো দিয়ে টমেটোর এক গ্লাস জুস পান করতে পারেন।এতে কিডনির মধ্যে যে খনিজ লবণ থাকে সেটা দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে।

এ ব্যাপারে কিউর জয় অনলাইনে ক্লিনিক্যাল হারবিলিস্ট টড ক্যালডেকট বলেন, অধিকাংশ কিডনি পাথর ক্যালসিয়াম Oxalate স্ফটিক খুব ঘনীভূত হয়ে মূত্র দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই সমস্যা এড়ানোর জন্য দৈনিক প্রচুর পানি খেতে ভুলবেন না এবং প্রচুর পরিমাণে টক জাতীয় খাবার খেতে পারেন যা পাথর ভাঙতে সাহায্য করে। অ্যালকোহল, অতিরিক্ত প্রোটিন, কোমল পানীয়, চিনি, এবং অক্সালটের উৎস আছে এইসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তেমনই কালো চা এবং কফি যতটা সম্ভব এড়িয়ে যান।