ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে চমকে দেওয়া উপহার

আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। পৃথিবীময় ভালোবাসাবাসির দিন। পশ্চিমা দেশগুলোয় ভ্যালেন্টাইনস ডে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে এই দিনটি সর্বজনীন একটি উৎসব হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।ভালোবাসার দেবতা কিউপিড উড়ে উড়ে যাকে তাকে তীর ছুঁড়ে মারবেন, আর সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রেমের বাঁধনে জড়িয়ে পড়বে; এই তত্ত্ব বাংলাদেশে কিছুটা হলেও অচল।

বিশেষ এই দিনটি ইউরোপের প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ হলেও। দিনটি বাংলাদেশে এসে বাবা-মা-ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব এমন কী ছাত্র-শিক্ষক পর্যন্ত গড়িয়েছে! প্রেমিক-প্রেমিকার কথা তো বলাই বাহুল্য। তাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে শুধু মনের মানুষের কথা ভাবলেই হবে না, ভাবতে হবে সব প্রিয়জনের কথাই।ভালোবাসা দিবসের মত একটি সর্বজনীন উৎসবে গিফট একটি মহামূল্যবান অনুসর্গ।

প্রিয়জনের আনন্দকে আজ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার দেওয়া একটি ছোট্ট গিফট।তবে সেই গিফট বাছাইয়েও আপনাকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। যাকে গিফট দিবেন তার পছন্দ অপছন্দের দিকে খেয়াল রেকে উপহার কিনতে হবে। আর সেটির উপস্থাপনও যেন হয় নান্দনিক-আকর্ষণীয়।

মাকে দিতে পারেন শাড়ি, প্রিয় লেখকের বই

অবসরে যদি মায়ের সঙ্গী বই হয়ে থাকে তাহলে তার এই প্রিয় বইকেই উপহার হিসেবে বেছে নিন। দেখবেন, মা ভীষণ খুশি হবেন। মায়ের পছন্দের শাড়িও হতে পারে ভালোবাসা দিবসের দারুণ একটা উপহার। যে রংটা মায়ের ভালো লাগে সেই রঙের একটা শাড়ি কিনে দিন মাকে। মায়ের প্রিয় মুহূর্তের পুরনো কোনো ছবি ফ্রেমে বাঁধাই করে দিতে পারেন। এতে তিনি অনেক খুশি হবেন।

ভালো শিল্পী পেলে স্কেচ আঁকিয়ে নিতে পারেন, একটু আলাদা হবে ব্যাপারটা। মায়ের পুরনো চশমার ফ্রেমটি বদলে নতুন একটি ফ্রেম কিনে দিন। এটাও মায়ের জন্য ভালো চমক হতে পারে। নিজের কিছু মনের কথা যা মাকে কখনোই বলা হয়নি সেই কথা কার্ডে লিখে দিতে পারেন। মায়ের কোনো প্রিয় জায়গা থেকে তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসুন, অনেক দিন যেখানে তার যাওয়া হয় না।

কোনো রেস্তোরাঁ থেকে মায়ের পছন্দের খাবার কিনে এনে খাওয়াতে পারেন।

স্ত্রীকে ফুল, ঘড়ি কিংবা নেকলেস

ভালোবাসা দিবসে প্রিয়তমা স্ত্রীকে দিতে পারেন অ্যাক্সক্লুসিভ ডিজাইনের দৃষ্টিনন্দন ঘড়ি। অথবা দিতে পারেন তার পছন্দের মডেলের মোবাইল ফোন। কোনো দিন শপিংয়ে গিয়ে স্ত্রী একটি নেকনেস পছন্দ করেছিল কিন্তু তখন টাকা না থাকায় কিনে দিতে পারেননি।

এই দিনটিতে সেটি কিনে এনে স্ত্রীকে চমকে দিতে পারেন। অথবা দিতে পারেন লেটেস্ট ডিজাইনের থ্রিপিস কিংবা ফতোয়া। দিতে পারেন গিফট হ্যামপারও। অফিস শেষে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে তার পছন্দের খাবারও খেতে যেতে পারেন।

প্রেমিকাকে ব্রেসলেট কিংবা সানগ্লাস সঙ্গে ফুল

কবির মতো প্রেমিক মনের অধিকারীরা তার প্রিয়ার জন্য অনেক কিছু করতে প্রস্তুত। ভালোবাসার মানুষকে চমকে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভালোবাসাকে নতুন রূপে প্রকাশের জন্য উপহারের কোনো বিকল্প নেই। নারী দিবসে প্রেয়সীকে দিতে পারেন উপহার। ফুল সবারই পছন্দ। আর প্রেমিকারা তো ফুল পেলে অনেক খুশি হন। এই দিনে প্রেমিকার জন্য বেছে নিন একগুচ্ছ লাল গোলাপ।

তাকে খুশি করতে দিতে পারেন সুদৃশ্য ব্রেসলেট। দিতে পারেন কসমেটিকস হ্যামপারও। কিংবা নারী দিবসের স্মারক হিসেবে এই দিবস লেখা মগ কিংবা অন্য কোনো সুভিনিরও দিতে পারেন। প্রেমিকা পছন্দ করে এমন কিছুও তাকে দিতে পারেন। অথবা প্রথম পরিচয়ের দিনে তোলা কোনো ছবিও বাঁধাই করে দিতে পারেন প্রেয়সীকে। এতে সে দারুণ খুশি হবে।

অথবা দিতে পারেন কোনো ড্রেস, মেকআপ কিট, পছন্দের ব্যান্ডের লিপস্টিক, পার্স, সানগ্লাস, হেয়ার স্ট্রেইটনার, আংটি, লকেট বা কানের দুল।

বান্ধবীর জন্য সুদৃশ্য কার্ড কিংবা শোপিস

প্রিয় বান্ধবীর জন্য নিজের ডিজাইন করা স্পেশাল কোনো কার্ড দিতে পারেন। যেখানে তার প্রশংসা করে সুন্দর ভাষায় কিছু লেখা থাকবে। কিংবা আপনাকে বন্ধু হিসেবে বেছে নেয়ার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কিছু একটা লিখে হাতে বানানো কার্ডও তাকে দিতে পারেন। দিতে পারেন পছন্দের কোনো শোপিস।

ঘরে রেখে দেয়ার বা সাজানোর কোনো কিছুও উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এতে সে দারুণ খুশি হবে। প্রিয় লেখকের বই, প্রিয় গায়কের গানের সিডিও দিতে পারেন বন্ধুকে। তাছাড়াও বন্ধুর জন্য ভালো উপহার হিসেবে দিতে পারেন কলম, চাবির রিং, ডায়রি, ফটোফ্রেম।

সহকর্মীকে মগ কিংবা টেবিল ক্যালেন্ডার

যেহেতু আপনার সহকর্মী কর্মসূত্রে পরিচিত সুতরাং সেক্ষেত্রে তাকে খুব বেশি ব্যক্তিগত উপহার না দেওয়াই ভালো। দিতে পারেন ভালোবাসা বিশেষ টেবিল ক্যালেন্ডার কিংবা ডায়রি অথবা কলমদানি। আপনার সহকর্মী যদি চা বা কফি খেতে বেশি ভালোবেসে তাহলে তাকে ভিন্ন একা উপহার হিসেবে দিতে পারেন বন্ধু তার পছন্দের ব্র্যান্ডের কফির জার ও কফির মগ।

কিংবা নারী দিবসের বিভিন্ন মগ কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে সহকর্মীর জন্য মগ কিনতে পারেন। আবার ভালো ব্র্যান্ডের কলমও উপহার হিসেবে দিতে পারেন। এই উপহারের মধ্য দিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। সহকর্মী আপনার এ উপহার মনে রাখবে।

আপুকে দিন হ্যান্ডব্যাগ কিংবা ওয়ালেট

বড় বোনটি যদি কর্মজীবী হয়ে থাকেন তবে নারী দিবসে তার জন্য সেরা উপহার হতে পারে হ্যান্ডব্যাগ। কর্মস্থলে নারীদের উপস্থিতি আপনি পছন্দ করেন এমনটিই জানান দিতে কর্মস্থলে কাজে লাগে এমন কোনো উপহারও তাকে দিতে পারেন। আপু যদি শিক্ষার্থী হন তবে তাকে দিতে পারেন ওয়ালেট কিংবা মোবাইল এক্সেসরিজ। উপহার যাই হোক, এর উপস্থাপন হতে হয় আকর্ষণীয়। উপহার বক্সের গায়ে কবিতার পঙ্তিমালাও লিখে দিতে পারেন। লিখে দিতে পারেন ‘টোকেন অব লাভ’ শব্দটি।

ভাবীকে দিন পারফিউম কিংবা চুড়ি

আপনার পছন্দের মানুষের কথা যার সঙ্গে সহজে শেয়ার করা যায় তিনি হচ্ছেন ভাবী। তাই নারী দিবসে তাকে একটি উপহার দিয়ে তাকে খুশি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার পছন্দের ব্র্যান্ডের পারফিউম কিংবা বডি স্প্রে হবে উত্তম উপহার। ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে নানা দামি ব্র্যান্ডের সুগন্ধি পাওয়া যায় এখন। সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। কিংবা চুড়িও কিনে দিতে পারেন তাকে। দিতে পারেন সুদৃশ্য ফুলদানিও।

ছোট বোনকে দিন চকোলেট কিংবা খেলার সামগ্রী

ফুলের পর ভালো উপহার হল চকোলেট। নানা ধরনের চকোলেট থেকে পছন্দের চকোলেটটি বেছে নিন আপনার ছোট্ট বোনটির জন্য। সুন্দর মোড়কে সাজিয়ে তার হাতে সেটি তুলে দিন। দিতে পারেন খেলার সামগ্রীও। এতে সে খুবই খুশি হবে।