এখনো প্রেমের প্রস্তাব পাই : জেমস

১৪ ফেব্রুয়ারি, ভেলেন্টাইনস ডে উপলক্ষে এসভিএফ মিউজিকের তরফে আয়োজন করা হয়েছে এবছরের সবথেকে বড় মিউজিক কনসার্ট ‘গান পিরীতি’। দুই বাংলার শিল্পীদের গান, গানের প্রতি তাদের প্রেম মিলিমিশে যাবে এই কনসার্টে।আর ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে এই কনসার্টে যোগ দিতে কলকাতায় গিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক জেমস।

মৌলিক গানের পাশাপাশি ‘ভিগি ভিগি’, ‘চল চলে’র মতো হিন্দি গানের সুবাদে ভারতেও বেশ পরিচিত তিনি। সেখানে গিয়েই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কলকাতার শীর্ষ পত্রিকা আনন্দবাজারকে। পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হল,

-২০১৮-তে নতুন কোনও অ্যালবাম মুক্তির পরিকল্পনা আছে?

জেমস: নতুন গান তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এখন শোয়ের চাপে নতুন গান তৈরির কাজে তেমন একটা সময় দিতে পারছি না। এই বছর বেশ কয়েকটি গান মুক্তি পাবে, অ্যালবাম নয়। এখন আর অ্যালবামের যুগ নেই। মাধ্যমটাই পালটে গিয়েছে।

-সিডি থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে এই রূপান্তরকে আপনি কী ভাবে দেখেন?

জেমস: এখন গান অনেকটাই অ্যাপকেন্দ্রিক। তার কিছু ভাল দিক থাকলেও গানের মজাটা থাকছে না। তবে ভাল গানের কদর সব সময়ই থাকবে। মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনছে। এখন সমস্যা হল, সারা দুনিয়াতেই ভাল গানের অভাব। শিল্পীকে কর্পোরেট ব্যবস্থা এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে যে, গুণমানে তার প্রভাব পড়ছে। এখান থেকে বেরোতে না পারলে নতুন সৃষ্টি হবে কী ভাবে? শিল্পীকে স্বাধীনতা দিতে হবে। ষাটের দশকে কিন্তু মিউজিক মুঘলরা গানের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতেন না।

-বলিউডে ‘ভিগি ভিগি’, ‘রিশতে’র মতো হিট গানের পরেও আপনাকে আর পাওয়া গেল না কেন?

জেমস: পেশাদার ভাবে কাজটা করতে হলে আমাকে মুম্বাইয়ে থাকতে হতো। আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না। তবে মাঝখানে ভেবেছিলাম, আমার জনপ্রিয় বাংলা গানগুলো হিন্দিতে রিক্রিয়েট করব। সময়ের অভাবে সেটা হচ্ছে না।

-ফারুক মাহফুজ আনাম থেকে জেমস হলেন কী ভাবে?

উ: জেমস আমার ডাকনাম। বাবা-মা ওই নামে ডাকতেন। হঠাৎই দেখলাম জেমস নামেই পরিচিতি বাড়তে লাগল। ফারুক ক্রমশ অন্তরালে চলে গেল।

-পড়াশোনায় অবহেলার জন্য বাবা নাকি আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন?

জেমস: হ্যাঁ। তার পরেই বোর্ডিংয়ে থাকতে শুরু করি। সেখান থেকেই আমার গানের সফরের শুরু। তবে আক্ষেপ রয়ে গেল, বাবা আমার সাকসেসটা দেখে যেতে পারেননি।

-আপনার জীবনকাহিনি তো সিনেমার প্লটও হতে পারে। বোহেমিয়ান জীবনযাত্রা, খ্যাতি, প্রেম, বিচ্ছেদ, আইকন হয়ে ওঠা… জীবনটাকে কী ভাবে দেখেন?

জেমস: (হেসে) সত্যি বলতে, ঘুরে তাকানোর মতো সময় নেই। আরও অনেক কাজ করতে চাই। তবে হ্যাঁ, কোনও একটা সময় নিশ্চয়ই এই চলার পথে একবার ঘুরে দেখব জীবনটাকে। যে জার্নিটা করেছি, চলার পথে স্ট্রাগল ফিরে দেখতে চাই। নাইট ক্লাবে গাইতাম, আবার বিয়ের অনুষ্ঠানেও গাইতে হতো। সবই আনন্দের সঙ্গে করতাম।

-শোনা যায়, জেমস খুব বোহেমিয়ান। সেই কারণেই কি প্রথম বিয়েটা ভেঙে গেল?

জেমস: এ সব কথা থাক।

-সাফল্যের পাশাপাশি প্রেমও তো এসেছে জীবনে…

জেমস: প্রেমের কি কোনও শেষ আছে? এখনও অনেক প্রস্তাব পাই (হেসে)।

-আপনার সন্তানরা কী করেন?

জেমস: এক মেয়ে ডালাসে থাকে। আর এক মেয়ে ও ছেলে ঢাকায়। ছেলের ফিল্ম নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। ছবি তৈরির চিন্তাভাবনা করছে। আর মেয়ে ম্যাট্রিক দেবে।

-পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে?

জেমস: নিয়মিত হয়ে ওঠে না। অনেকেই বাইরে থাকে। তবে কেউ ঢাকায় এলে তখন কথা হয়।

-আপনি তো গোটা দুনিয়া ঘুরে বেড়ান। বাংলাদেশের বাইরে আপনার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটা?

জেমস: সত্যি বলব? আপনি হয়তো বলবেন, ক্লিশে উত্তর। কিন্তু সত্যিই কলকাতা আমার খুব প্রিয় শহর। এখানে সবাই বাংলায় কথা বলে, এটাই খুব ভাল লাগে। নিউ ইয়র্কও বেশ পছন্দের।

-দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর কারণেই কি ফোটোগ্রাফির নেশায় পড়লেন?

জেমস: আমার এক ফোটোগ্রাফার বন্ধুই এই ভূত চাপিয়েছে। ও বলেছিল, ‘তুমি তো সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াও। নানা জায়গার ছবি তুলতে পারো তো।’ সেই শুরু… তবে এখন সেই নেশায় একটু ভাটা পড়েছে। নিজের শো নিয়ে খুব ব্যস্ত। এই তো, কলকাতাতেও তো কনসার্টের জন্যই এসেছি।

-এত ব্যস্ততার মাঝে অবসর সময় কাটান কী ভাবে?

জেমস: বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিই। গান শুনতেও ভাল লাগে। মার্লে, জিম মরিসনের গান খুব প্রিয়।