কে এই ‘টেরট বাবা’ রাদবি রেজা?

জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘ডর’-এর ‘ভৌতিক গবেষক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাদবি রেজা ওরফে ‘টেরট বাবা’কে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতে রাদবিকে গ্রেফতার করা হয়।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত রেজা ওরফে টেরট বাবা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে এবিসি রেডিওর ‘ডর’ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রথম দিকে সেই অনুষ্ঠানে শুধু ভূতের গল্প বলা হতো। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠানটিতে মানুষের নানা ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘টেরট কার্ড সেগমেন্ট’ নামে একটি বিষয় যুক্ত করেন।

হাত দিয়ে জিন ধরা, ব্রেইন দিয়ে লাইট জ্বালাতে পারা, খালি হাতে মোম জ্বালানো ও টেরট কার্ডের মাধ্যমে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে রেজা টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ বলে জ্বিন-ভূতের ভয় দেখাতেন। এর মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষের কাছে আতর, মুক্তা, আংটি চড়া দামে বিক্রি করতেন তিনি।

মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, রাদবি রেজা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের দিকে এবিসি রেডিওতে কথিত প্যারানরমাল রিসার্চার হিসেবে যুক্ত হন। এর আগে ওই অনুষ্ঠানে শুধু ভৌতিক গল্প শোনানো হতো। কিন্তু রাদবি রেজা যুক্ত হওয়ার পর শুরু হয় মানুষের নানাবিধ সমস্যার সমাধান পর্ব ‘টেরট কার্ড সেগমেন্ট’। সাধারণ মানুষকে ফোন করে ও পরিচয় দিয়ে সেখানে অংশগ্রহণ করতে হতো।

নজরুল ইসলাম জানান, তাই রেজা সহজেই মানুষের কাছ থেকে তাঁদের ফোন নম্বর পেয়ে যেতেন। সংগৃহীত নাম ও নম্বর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্চ করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। মানুষ যখন তার সঙ্গে দেখা করত, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অনেক তথ্যই আগেভাগে বলে দিতে পারতেন। তখন উক্ত ব্যক্তির মনে একটা ধারণা জন্ম নিত যে তিনি অনেক কিছু জানেন বা অতিমানবীয় শক্তির অধিকারী।

মোল্লা নজরুল ইসলাম আরো বলেন, যেহেতু অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় রেডিও চ্যানেল এবিসি রেডিও ৮৯.২ এফএমে প্রচার করা হতো, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই এটি লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যেত। তার এই অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলে দেওয়াকে সহজ সরল মানুষ সত্য ভেবে তাঁর ভক্ত হয়ে যেত। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায় করতেন। মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য আতর, মুক্তা, আংটি ইত্যাদি ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হতো।

এর আগে ২০১২ সালে ২০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ রেজাকে গ্রেপ্তার করেছিল বলেও জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার।