পুত্র হারানোর শোকে মায়ের আহাজারি

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী:  হাটহাজারী পৌরসভার মাটিয়া মসজিদের পশ্চিমে কিছু দুর গেল রেল রাস্তার পাশ ঘেষে চন্দ্রপুর মানিক মিস্ত্রীর বাড়ীতে নিহত সোহেলের ঘরে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য,সবার চোঁখ অশ্রুজল,সেখানের আকাশটাও মেঘে ঢাকা,নিরব,শুধু এক মায়ের কান্নার আহাজারিত পুরো এলাকা নিস্তব্ধ নিরব, কান্নাররুল,অ পোত,অ পোত তুই কড়ে,আর পোয়া কই,তোয়ারা আর পোয়ারে আনি দওনা,ও আল্লাহরে আল্লাহ, অ-পোত আরে মা কই কনে ডাকিব কছুনারে,এমন কান্নার বিলাপে স্বয়ং প্রতিবেদককের চোখের পানিও ধরে রাখতে পারেনি। হত দরিদ্র পরিবারের দুই বোন এক ভাই। বাবা পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রী।

প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত সোহেল ছিল প্রতিবাদী,অন্যায়ের কাছে সে কখনো মাথা নত করতো না। মানুষে উপকার করে সে। তারই অংশ হিসেবে বেশ কিছু দিন আগে মেডিকেল গেইট এলাকায় “পাওয়ার গ্রুপ” নামে একটি চক্র আছে। সে চক্রটি নিহত সোহেলের এলাকার অসহায় এক মানুষের মোবাইল নিয়ে যায়। তারপর সে এবং তার কয়েকজন বন্ধু মিলে তাদের কাছে থেকে মোবাইলে নেয়।

এরপর ক্ষুব্দ হয় চক্রটি। তারপর বেশ কয়েকবার হামলা চালাতে যায় সোহেলের বাড়ীতে। এরপর বিষয়টি মিমাংসা করে দেয় স্থানীয়রা। তারপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। নিহত সোহেলের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

উল্লেখ্য, গত ৫ই মার্চ সোমবার বিকালে চারটার সময় উপজেলা মেডিকেল গেইট ফজু তালুকদার বাড়ীর সামনে দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে সোহেল রানা(২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়। সে পৌরসভার চন্দ্রপুর এলাকার নুর মোঃ মানিকের পুত্র।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে এলাকায় ফজু তালুকদার বাড়ীর সামনে বন্ধুদের সাথে দাওয়াত খেতে যায় সোহেলও। এসময় পুর্ব থেকে ওতপেতে থাকে দুর্বৃত্তরা।নিহত সোহেলরা খাওয়া দাওয়া শেষে বের হয়ে আসা মাত্রই হামলা চালায় গ্রুপটি। এমুহুর্তে সোহেল পালানোর সময় তারা ইট নিক্ষেপ করলে সেটি গিয়ে তার কপাল ভেদ করে। তখন সে মাটিতে লুঠিয়ে পড়লে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এরপরও চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করেনি । অভিযোগ বা মামলা হলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।