ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত অপুষ্টি লাঘবে গোল্ডেন রাইস

জেনেটিক্যালী মডিফাইড (জিএম) বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ জৈব্য প্রযুক্তি প্রকৌশলের মাধ্যমে রুপান্তরিত অন্যন্য এক ধরনের ধান গোল্ডেন রাইস। ভিটামিন-এ এর ঘাটতি পূরণে সহায়ক। ভিটামিন-এ ঘাটতি মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে,শিশুদের সংক্রামক ব্যাধিজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এই ধরণের চালের ভাত খেলে ভিটামিন এ জনিত অভাব থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যা যোগ হচ্ছে মোট জনসংখ্যার সাথে, অন্যদিকে দিন দিন আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পরেছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘হাইব্রিড ফসল’ আজ একটি বাস্তবতা এবং সময়ের দাবি।

কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আজ ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে “PROGRESS AND SAFTY EVALUTION OF GR2E GOLDEN  RICE ” শীর্ষক কর্মশালার Policy Discussion Session এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে দেশের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে জৈবপ্রযুক্তি ফসল – বিটি বেগুন-এর সাফল্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ এখন কৃষি-জৈব প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে আরো তিনটি ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

এইগুলি হল: ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস,আলুর নাবী ধসা রোগ প্রতিরোধী জাত এবং বিটি তুলা। হাইব্রিডের অনুমতি দেওয়ার জন্য একসময় অনেক সমালোচনা হয়েছে। সরকার অবশ্যই হাইব্রীড প্রযুক্তিগুলির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে। কৃষিতে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে ভিটিমিন সমৃদ্ধ এই ধান চাষে গোল্ডেন রাইসএ বিপ্লব আসবে।

প্রধান খাদ্যদ্রব্য হিসাবে চালের ওপর আমাদের নির্ভরতা,তবে চালে কোন বিটা ক্যারোটিন নেই। ভিটামিন এ এর ঘাটতি (VAD) ছোট শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদেরকে সবচেয়ে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করে। আমাদের প্রতিদিনের ক্যালরি ৭০ শতাংশের জন্য চালের উপর নির্ভর। দৈনিক মাত্র ১৫০ গ্রাম গোল্ডেন রাইস একটি প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ এর চাহিদার অর্ধেক পূরণ করে।

গত বোরো মৌসুমে ব্রি বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইসের প্রথম পরীক্ষামূলক আবাদ করে আশানরুপ ফল পেয়েছে। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BARRI) -এর বিজ্ঞানীরা GR2E BARRI ধান-২৯-র ফসল কাটার পরে দেখেন যে চালের শস্য ১০ থেকে ১২ μg /গ্রাম (মাইক্রোগ্রাম / গ্রাম) যাতে যথেষ্ট পরিমান বিটা ক্যারোটিন রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

মতিয়া চৌধুরী বলেন,পারিবেশগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী গোল্ডেন রাইসের নিয়ন্ত্রিত মাঠ মূল্যায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা স্থলের পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্যমান নিশ্চিত করণের পরীক্ষাও করা হবে। ইরি ও আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রিকে সহায়তা করবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক গোল্ডেন রাইস পরিবেশের জন্য এবং খাদ্য হিসেবে নিরাপদ বলে প্রত্যয়ন পেলেই কেবল কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য জাত হিসেবে ছাড়করণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ব্রি গ্রহণ করবে।

গোল্ডেন রাইসের সফলতা যাদের কাছে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ অন্যান্য খাদ্য সহজলভ্য নয় কিংবা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে তাদের মাঝে সহজেই এই ধান জনপ্রিয় হবে। গোল্ডেন রাইস ইনব্রেড বা স্বপরাগায়িত জাত বিধায় কৃষক নিজেই নিজের উৎপাদিত বীজ পরবর্তী ফসল চাষে ব্যবহার করতে পারবে।

উল্লেখ্য,আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-এর নেতৃত্বে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ,বিশেষ করে বাংলাদেশ,ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় গোল্ডেন রাইসের জাত উদ্ভাবন এবং মূল্যায়নের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি ও পুষ্টি গবেষণায় স্বনামধন্য কতিপয় আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি) গোল্ডেন রাইসের উন্নয়ন ও মূল্যায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলছে।

ব্রি বিজ্ঞানীগণ ফলন ও রোগবালাই প্রতিরোধক্ষমতা অক্ষুন্ন রেখে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী গোল্ডেন রাইসের জাত উদ্ভাবনে নিয়োজিত আছেন। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ১৯৬৫ সালে ৩০৩ টি জাতের ধানের পরীক্ষা করে বাংলাদেশে। ইরির সাথে আমাদের সম্পর্ক আছে এবং থাকবে।

ব্রাক এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: কবীর ইকরামুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রি’র মহাপরিচালক ড.মো: শাহজাহান কবীর,মো: ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার,অতিরিক্ত সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়,ইরি’র মহাপরিচালক Dr. Matthew Morell।

মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা