কেমন হবে কোচ ওয়ালশের প্রথম একাদশ?

 

আগে শুধু পেস বোলিং দিকটা দেখতেন। এখন অনেক দায়িত্ব। পেস বোলিংয়ের সঙ্গে তাঁর কাঁধে হেড কোচের বড় দায়িত্বটাও। ওয়ালশ এখন ব্যস্ত মানুষ।চোখে পড়ার মতো পার্থক্য তাঁর মধ্যে দেখা যাচ্ছে ইদানীং। বাংলাদেশে আসার পর থেকে তো সর্বদা রিলাক্স মুডেই ছিলেন। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে থেকে মাশরাফি ছাড়া বাদ বাকি পেসাররা সমানে মার খাচ্ছেন, তাতেও ওয়ালশকে চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন বলে মনে হয়নি।

কিন্তু শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিকে তিনি অন্য মানুষ। সেই ভাবলেশহীন-ভাবটা উধাও! দীর্ঘাকায় এ ভদ্র মানুষটা খুবই সিরিয়াস। হেড কোচের চাকরিটা স্থায়ী করতেই কি এত বেশি সিরিয়াস হয়ে ওঠেছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি?

অনুশীলনে তাঁর বাড়তি তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। কখনও ছুটে যাচ্ছেন তাসকিনের কাছে। হাতে ধরে ভুলগুলো শিখিয়ে দিচ্ছেন। সঠিক জায়গায় বল করতে করণীয় বলে দিচ্ছেন রুবেলকে। এমনকি স্পিনার ও ব্যাটসম্যানদের টিপস দিচ্ছেন নিজে নিজে স্পিনার বা ভালো ব্যাটসম্যান না হয়েও। তার অভিজ্ঞতা আর কম নয়।

নিদাহাস ট্রফিতে হয়তো নিজের মতো করে একাদশ বেছে নিবেন ওয়ালশ। এখানে অধিনায়ক ও ম্যানেজারের ভূমিকা কমই থাকবে। মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ এমনিতেই নরম ধরম মানুষ, তারপরে আবার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। তাই একাদশ নির্বাচনে তাঁর বড় ভূমিকা থাকবে বলে মনে হয় না।

পরিস্থিতির কারণে বেশি মাতবরি করতে চাইবেন না ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। একাদশ নির্বাচনে বরাবরই যাঁর একটা বড় ভুমিকা থাকে। কিন্তু টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে মিডিয়াতে যে সমালোচনা শুরু হয় তাতে তিনি রাগান্বিত। বিসিবি প্রধানও সুজনের উপর আগের সেই আস্থা রাখেন না।

ম্যাজেনার হিসেবে শ্রীলঙ্কা গেলেও নানা কারণে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছেন সুজন। প্রাকটিস, ড্রেসিংরুমে কিংবা হোটেলে আগের সেই প্রাণচঞ্চলতা নেই তার মধ্যে। তিনি যেন নিয়ম রক্ষার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন এবার।

তা কেমন হবে হেড কোরে একাদশ? দেশের মাটিতে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যে পাগলামি হয়েছে, তার পুণারাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা একেবারই নেই। জানা গেছে, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিতদের নিয়েই আজ একাদশ সাজাবেন ওয়ালশ।

সেই পরীক্ষিত কারা তা মোটামুটি সবারই জানা। প্রাকটিস ম্যাচে রান না পেলেও তামিমের সঙ্গে ওপেন করবেন সৌম্য সরকার। মুশফিকুর রহিম, মাহমুউল্লাহ রিয়াদ। প্রাকটিস মাচে ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন লিটন কুমার দাস। একাদশে ঠাই পাওয়ার সম্ভাবনাই তার বেশি।

সাব্বিরের ফর্ম নিয়ে খুবই চিন্তিত টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রাকটিস ম্যাচেও রান পাননি তিনি। তারপরেও একাদশে জায়গা হয়ে যেতে পারে তার। অলররাউন্ডার মেহেদী মিরাজও থাকতে পারেন একাদশে। তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। মোস্তাফিজের সঙ্গে রুবেল ও তাসকিন। ওয়ালশের একাদশ হতে পারে এমনই।