আজ বাংলাদেশ-ভারত হাইভোল্টেজ ম্যাচ

নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের মিশন শুরু হচ্ছে আজ। টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হাইভোল্টেজ এ ম্যাচটি শুরু হবে। আজকের ম্যাচে দুই দলেরই নিয়মিত অধিনায়ক অনুপস্থিত। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাদ, তার জায়গায় এই দায়িত্ব পালন করবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আর বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে ভারতীয় দলে নেতৃত্ব দিবেন রোহিম শর্মা।

ভারতকে হারিয়ে আজ জয় দিয়ে মিশন শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে সহজেই হারিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা। ফলে প্রতিপক্ষকে কাবু করা সহজ হবে মনে করে এখন আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা।

পরাজয়ের যে বৃত্তে বাংলাদেশ, সেখান থেকে উত্তরণের পথ একটিই- জয়। একটা জয়ই বদলে দিতে পারে সব চিত্র। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, দলের বাইরে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজা- সবাই এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সাকিব দলের সাথে না থাকলেও এখন শ্রীলঙ্কায়। অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার আগে দলের সাথে থেকে আত্মবিশ্বাসটা বাড়ানোর কাজে অংশ নেবেন টিমমেটদের সাথে।

আসলে টি-২০ ম্যাচটা খুবই ক্যালকুলেটিভ। বল ও রানে চোখ রেখে এগোতে না পারলে বিপদ। পাওয়ার প্লেতে কত রান করতে হবে। এরপর প্রতি ধাপে কিভাবে রান উঠে আসবে এমন ছক একেই খেলা জরুরি। বাংলাদেশ ওই প্ল্যানেই পিছিয়ে। যদিও এখন এগোচ্ছে। হিসাব কষছে। বিশেষ করে জয়ের যে আকুতি এখন দলের, সেটাই এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের প্রতিনিয়ত। আগেও দেখা গেছে যে ম্যাচটা টার্গেট করে বাংলাদেশ, সেটা জিতেই ছাড়ে। ভারতের বিপক্ষে এ ম্যাচটা জয়ের টার্গেট বাংলাদেশের। জয় চাই। কারণ হারের বৃত্ত থেকে আর ভালো খেলার অর্থ হয় না। সব ভালো খেলাই বৃথা, যদি জয় না আসে। বাংলাদেশের অপেক্ষা সেই জয়ে।

শুধু সেখানেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ তে ছিল জয়শূন্য। হোমে ওয়ানডেতে জয় দিয়ে সূচনা করে তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার পর গ্রুপ পর্বের রিল্যাক্স ম্যাচে হেরে শুরু। এরপর আর জয়ের মুখ দেখেনি,ওয়ানডে, টি-২০ ও টেস্ট ম্যাচেও। এভাবে জয়শূন্য থেকে কান্ত টিম বাংলাদেশ। যদিও নিদাহাস ট্রফি একটা ভিন্ন টুর্নামেন্ট। টি-২০ ভার্সন। তবুও এতেই এখন সাফল্যপ্রত্যাশী। ভারতকে নিয়ে যতটা না দুশ্চিন্তা, তার চেয়ে বেশি অশান্তি নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েই। তামিমের সঙ্গে সৌম্য কতটা ভালো করবেন তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। প্র্যাকটিস ম্যাচে লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং ও নতুন করে দলে তার উপস্থিতি জরুরি করে তুলেছে। এ ছাড়া মুশফিক তো ফর্মেই।

মাহমুদুল্লাহও গত বিপিএল থেকে ভালো খেলছেন। লোয়ার মিডল অর্ডারসহ বোলিংটা যথার্থ হলেই চিন্তার আর কারন নেই। তাসকিন ও রুবেলের প্র্যাকটিস ম্যাচে ভালো করার আশা জাগিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার উইকেট মিরপুর শেরেবাংলার মতো নয়। এখন লঙ্কানরা স্পিনসহায়ক উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। চেষ্টা করছে তারা ফাস্ট উইকেট করতে। যেমনটা করছে পাকিস্তান। এটা পজেটিভ। সবসময় স্পিন সফল হবে এমনটা নয়।

বিশেষ করে বাংলাদেশের স্পিন যেখানে নিজের মাটিতেই বেশি কার্যকর। সে তুলনায় পেস অ্যাটাক যথেষ্ট সমৃদ্ধ। দলে হেড কোচ কোর্টনি ওয়ালশও পেসার নিয়েই কাজ করেছেন বেশি। ফলে উইকেট থেকে যদি পেসারেরা সহায়তা পান সেটা আশার কথা। যদিও ভারতের ব্যাটসম্যানদের আটকানো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জও। দলে নিয়মিত একাদশের অনেকেই নেই বটে, কিন্তু যারা রয়েছেন তারাও ঘুরেফিরে তো জাতীয় দলেই খেলেন।

তা ছাড়া দলটি নিজেদের মাটিতে যেমন দুর্দান্ত তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও খেলে এসেছে চমৎকার এক সিরিজ। সব মিলিয়ে তারাও প্রথম পরাজয়টা সামলে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। বড় কথা বাংলাদেশ এখনো জিতেনি। শেষ ম্যাচটা হয়েছিল ওয়ার্ল্ড টি-২০ তে। যেখানে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচটা জিতে নিয়েছিল ভারত ১ রানে। ফলে এ ম্যাচে পুরনো চিত্রটা বদলে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে বাংলাদেশ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশ দল : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, লিটন কুমার দাস, আবু হায়হার রনি, আবু জায়েদ রাহী, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন অপু।

ভারত দল : রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, সুরেশ রায়না, মানিশ পান্ডে, দিনেশ কার্তিক, দিপক হুদা, ওয়াশিংটন সুন্দর, যুজবেন্দ্রা চাহাল, অক্ষর প্যাটেল, বিজয় শঙ্কর, শারদুল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকট, মোহাম্মদ সিরাজ ও ঋসভ পান্থ।