শার্শায় বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন করে লাভবান খামারীরা

মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল: যশোরের শার্শায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি পালন শুরু হয়েছে। বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। টার্কি পালন করে ২ জন যুবক লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পিছনে না ছুটে টার্কি পালন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন তারা স্বাবলম্বী। তাদের দেখে অনেকেই এখন টার্কি পালনে উৎসাহ দেখাচ্ছে।

অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারীরা। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো মেশিন কিনে নতুন জন্ম নেওয়া বাচ্চা লালন পালন করে মাত্র তিন মাসের মাথায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন খামারীরা। লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় চাকরি করতেন শার্শার গিলাপোল গ্রামের জাহিদ পারভেজ রাজু। হঠাৎ করে বিমান সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২ বছর আগে বাড়িতে এসে সজিব টার্কি পালন শুরু করেন। তার পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাস করে চাকরি না পেয়ে শার্শার খলিসাখালী গ্রামের সজিব হোসেনও টার্কি পালন শুরু করেন। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।

১-১০ দিনের বাচ্চা ৩০০ টাকা ও বড় গুলি ৫/৬ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরণের শাক সবজি টার্কি খেয়ে থাকে। রোগ বালাই এর হাত থেকে রক্ষা করতে আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাণী সম্পদ থেকে যে ভ্যাসকিন দেওয়া হয় সেটার মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে জানান খামারী। টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে জ্বর-ঠান্ডা ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না। ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে।

রাজুর খামার থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার বাচ্চা উৎপাদন হয়ে থাকে। এদের দেখাদেখি শার্শার কাটুরিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী হায়দার আলী গগনও টার্কি পালন শুরু করেছেন। তিনি বাচ্চা ফুটানো মেশিনও কিনেছেন। এসব খামারে টার্কি পালন দেখে বেনাপোলসহ শার্শার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পারিবারিকভাবে টার্কি পালন শুরু করেছে এবং অনেকেই আগ্রহী হয়ে শুরু করেছে এই টার্কি চাষ।

টার্কির মাংস চর্বি বিহীন হওয়ায় সারা পৃথিবীতে এ মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয়। দ্রুত বর্ধনশীল একটি টার্কি বছরে ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজন হওয়ায় এটি অত্যন্ত লাভজনক। ইতিমধ্যে শার্শা উপজেলায় সফল খামারী টার্কি চাষ করছেন। বাণিজ্যিক ও পারিবারিক ভাবে টার্কি চাষ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখান থেকে টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করছেন। দিন দিন এর প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে।