সেদিন টাইগারদের জয়ে আবেগাপ্লুতো হয়ে গিয়েছিলেন এক ভারতীয় সাংবাদিকও!

প্রেমাদাসার প্রেসবক্সটা চমৎকার। সুবিশাল। ঢাকার প্রেস বক্সটাও মন্দ নয়। তবে প্রেমাদাসার প্রেসবক্স ঢাকার চেয়েও সুন্দর, অন্তত আমার কাছে। শুধু প্রেসবক্স নয়, পুরো স্টেডিয়ামের পরিবেশটাই অন্যরকম মনে হয়েছে।

শেরে বাংলার প্রেসবক্স কখনও কখনও আর প্রেসবক্স থাকে না। যেন গ্যালারি হয়ে ওঠে। সাংবাদিকরা হয়ে যান সমর্থক। হাত তালি, চার ছক্কা বা উইকেট পড়লে উচ্ছ্বাস-এসব চলতে থাকে। যেটা দুনিয়ার অন্য কোনো প্রেসবক্সে দেখা যায় না। একটু নয়, বাংলাদেশিদের তো আবেগ অনেকটাই বেশি। সেই আবেগ আমরা ধরে রাখতে পারি না।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের চার দিকে তাকালে চোখে পড়বে কতকগুলো সাইনবোর্ড, তাতে লেখা- দয়া করে নীরবতা পালন করুন। শনিবার রাতে সবাই নীরবেই কাজ করছিলেন সেখানে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের উত্তেজনার পারদও উপরে উঠতে থাকলো। সেই উত্তেজনায় সামিল ভারতীয় সাংবাদিকরাও! এক পর্যায়ে আর নীরব থাকলো না প্রেসবক্সটি।

মনে করেছিলাম, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচে ভারতীয় সাংবাদিকদের সফটকর্ণার থাকবে শ্রীলঙ্কার দিকে। কিন্তু না। দেখলাম. ঠিক তার উল্টো। এদিন তারা হয়ে গেলেন পুরোপুরি বাংলাদেশ দলের সমর্থক। ম্যাচের শেষ দিকে চরম উত্তেজনা। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলছেন মুশফিক। তার বীরত্বে স্তব্ধ গ্যালারির ৩০ হাজার দর্শক।

আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে টুর্নামেন্ট কভার করতে এসেছি, উত্তেজনায় টগবগ করছি। ম্যাচের শেষ দিক তখন। জলদি ম্যাচ রিপোর্ট করার তাড়া। কিন্তু কেউ যেন স্বাভাবিক থাকতে পারছেন না। কেউ লেখা বাদ দিয়ে পাইচারি করছেন, কেউ হাত ডলে চাপ কমানোর চেষ্টা করছেন। দুই একজন আবার মুশফিকের চার ছ্ক্কায় আবেগতাড়িত হয়ে শব্দ করে ফেলছেন এখানকার ঐতিহ্য ভেঙে।

বাদ যাচ্ছেন না ভারতীয় সাংবাদিকরাও। সবাই না হলেও দুই একজন বাংলাদেশিদের মতোই আবেগ দেখিয়েছেন। একজন তো বাংলাদেশিদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। শেষ ওভারে দরকার ৯ রান। স্ট্রাইকেন্ডে মুশফিক। প্রথম দুই বলে দুই করে নিলেন ৪। পরের বলে বসে পড়ে চার হাঁকালেন। একবারে পেছনের সারিতে বসে খেলা কভার করছিলেন ভারতীয় একজন সিনিয়র সাংবাদিক, যিনি বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই আবেগ দেখিয়ে আসছিলেন।

মুশফিক চার মারার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবেগটা আর ধরে রাখতে পারলেন না। চেয়ার থেকে উঠে চিৎকার মারলেন। প্রেসবক্সের সব সাংবাদিকরা পেছন ফিরে তাকালেন। একটু লজ্জা পেলেন। বললেন, ‘সরি, সরি, বেশি জোরে হয়ে গেছে। ভুল হয়ে গেছে।’ জয়সূচক এক রান আসার পর বাংলাদেশি সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে গেলেন। দাঁড়িয়ে গেলেন তিনিও।

হাত বাড়িয়ে আমাকে এবং অন্যান্য বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানালেন। ভারতীয় ওই সাংবাদিকের বাংলাদেশ প্রীতিতে মুগ্ধ হলাম। তাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম। জিজ্ঞাসা করলাম, শ্রীলঙ্কাও প্রতিবেশি বাংলাদেশও প্রতিবেশি, বাংলাদেশকে সমর্থন করছেন কেন?

ভারতের দক্ষিণের ওই সাংবাদিকের উত্তর, ‘বাংলাদেশ দলটার প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। দলটা বেশ ভালো করছিল। কিন্তু টানা হারছে দেখে খারাপ লাগছিল। এই জয়টা দরকার ছিল। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো, ক্রিকেটের জন্যও ভালো।’