মেথি দানার গুণাগুণ

মেথি দানা। আকারে যতই ক্ষুদ্র হোক, এর গুণাগুণ অপরিসীম। নানা ধরনের শাক-সবজি রান্না সুস্বাদু করে তুলতে মেথি দানার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মেথি দানা ব্যবহার করে ঘরোয়া টোটকাতেই সারিয়ে নিতে পারেন একাধিক রোগ-যন্ত্রণা।চলুন জেনে নেওয়া যাক এর গুণের কথা।

রাতে এক চামচ মেথি দানা জলে ভিজিয়ে যাঁরা রোজ সকালে সেই জল পান করেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি সুস্থ। এছাড়া গুড়ো মেথি দানা ফেসপ্যাক এবং হেয়ার প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এতে যেমন ত্বকের নানা রোগ দূর হয় তেমনই চুলের খুসকি দূর হয় অনায়াসে।

জ্বর ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য মেথি দানা অত্যন্ত উপকারী। সেই সময় রোগীর মুখে যেন কিছুই ভাল লাগে না। সেক্ষেত্রে এক চামচ মেথি দানা নিয়ে গরম জলে সেদ্ধ করে নিন। এবার সেটিকে ঠান্ডা করে বীচগুলি আলাদা করে দিন। এরপর তাতে এক চামচ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলেই মুখের স্বাদ ফিরে পাবেন।

জ্বরও দূর হবে।ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আমলকির বড় ভূমিকা রয়েছে। এর সঙ্গে মেথি দানা জুড়ে দিলেই বাজিমাত। ডক্টর পি এস ফাড়কে বলছেন, আয়ুর্বেদিক টোটকায় ডায়াবেটিস রোধ করা সম্ভব। তার জন্য শুকনো আমলকি গুড়ো, হলুদ ও মেথি দানা জলের সঙ্গে সম-পরিমাণে মিশিয়ে দিনে তিনবার খেতে হবে।

মেথি দানা দিয়ে আয়ুর্বেদিক চা তৈরি করে পান করলে অথবা মেথি শাক খেলে পেট পরিষ্কার থাকে। পেঁয়াজের রস দিয়ে মেথি দানা খেলেও পেট সাফ হয়।মেথি দানা, পুদিনা, তুলসি, দারুচিনি, লেবুর রস ও মধু দিয়ে চা বানিয়ে পান করেছেন কখনও? একবার ট্রাই করতে পারেন। এতে ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর হয়।

মেজাজটা বেশ হালকা লাগে।খুসকির সমস্যা অনেকেরই থাকে। বিজ্ঞাপন দেখে অনেক কোম্পানির শ্যাম্পু ব্যবহারেও লাভ হয় না। ঘরেই রয়েছে সমাধান। চুলের গোড়ায় মেথি পেস্ট লাগান ভালভাবে। ২০ মিনিট রেখে দিন। ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।

এতে শুধু খুসকিই দূর হবে না, চুলপড়াও কমে যাবে অনেকটা।ত্বক ও রক্তে নানারকম সংক্রমণ রোধে বড় ভূমিকা নেয় মেথি দানা। ত্বক সুস্থ ও ব্রণ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। মুখের যে অংশে ব্রণ হয়েছে, সেখানে মেথি পেস্ট লাগান। সারারাত রেখে সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন।কিছুদিন পর তফাৎটা নিজেই দেখুন চোখে পড়বেই।