নন্দীগ্রামে পুষ্টিগুণে ভরপুর সজিনার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

অদ্বৈত কুমার আকাশ, নন্দীগ্রাম (বগুড়া): নন্দীগ্রামে বহু গুনে গুনান্বিত সজিনার গাছগুলো এখন ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো সজিনার গাছে গাছে ছোট ছোট সজিনা বের হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে, বাসা-বাড়ির আশেপাশে, পুকুর পাড়ে, স্কুল-কলেজের মাঠে, রাস্তার দুই পার্শে এবং অকৃষি জমিতে পুষ্টিগুণে ভরপুর ও আঁশ জাতীয় সবজি সজিনা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সজিনার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন এলাকার কৃষকরা।

নন্দীগ্রাম কৃষি অফিস সূূত্রে জানা যায়, এবার নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ২০০ বিঘা অকৃষি বা পতিত জমিতে মৌসুমি ও বারোমাসি জাতের সজিনার চাষ হয়েছে।

এক সময় বাড়ির আশপাশের সীমানায় সজিনার গাছ লাগানো হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা এখন ফসলি জমিতেও সজিনার চাষ করছেন। পরিকল্পিতভাবে সজিনার চাষ করে লাভবানও হচ্ছেন।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সজিনা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় বলে জানা যায়। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সজিনা ১০০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শেষ সময়ে দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৫-২০ টাকায়।

নন্দীগ্রাম পশ্চিম পাড়ার সজিনা চাষী মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনের রাস্তার দুই ধারে ও উঠানে ছোট বড় ৮টি সজিনার গাছ আছে। গত বছরে ওইসব সজিনার গাছ থেকে প্রায় ১৫হাজার টাকার সজিনা বিক্রয় করেছিলাম। আশা করছি, এবার আরো বেশি টাকার সজিনা বিক্রয় করতে পারবো।

উপজেলার দলগাছা গ্রামের তাছলিমা খাতুন জানান, আগে বাড়িতে খাবারের জন্য সজিনা লাগাতাম। গত কয়েক বছর হলো বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি সজিনা বাজারে বিক্রি করেছি। এবার গাছে প্রচুর সজিনা ধরেছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভাল সজিনা পাবো।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা.মুশিদুল হক বলেন, সজিনার মাতৃগাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে চারা রোপণ করা হয়। সজিনার তেমন কোন রোগ-বালাই নেই এবং সজিনা চাষের খরচ নেই বললেই চলে।

তিনি আরোও জানান, এটি একটি লাভজনক ফসল এবং এটির ঔষধি গুণাগুণও আছে। অনেক জটিল রোগে সজিনা, পাতা ও সজিনা গাছের নানা অংশ ব্যবহার করা হয়। তাই বারো মাসি সজিনা চারা উৎপাদনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।