পর্দায় আসছে পানিপথের দুর্ধর্ষ লড়াই

বলিউডের পিরিয়ডিক সিনেমার সেরা পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর এর পরবর্তী সিনেমা এর ঘোষণা। নাম ‘পানিপথ:দ্যা গ্রেট বিট্রেয়াল’। আবারো ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ে তিনি আমাদের স্বাগত জানাবেন।আর এবার তার সাথে রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন কাপুর আর কৃতি স্যানন। আর তার এবারের ছবির কাহিনি ১৮ শতকে ঘটা পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এবার রুপালি পর্দায় তিনি ‘মারাঠি যোদ্ধা’দের বীরত্বগাথা তুলে আনবেন।

অনেক ভুল ধারণা পানিপথ মানে পানির পথ বা নদীর সাথে কোনভাবেই রিলেটেড না। ভারতের রাজধানী থেকে ৯০ কিমি উত্তরে একটা বিস্তীর্ণ এলাকার নাম পানিপথ যা মারাঠা সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল এবং তিনটা বড় যুদ্ধ এই জায়গায় সংঘটিত হয়েছিল। নৃসংশতার দিক থেকে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধই ছিল ভয়াবহ যার উপর ভিত্তি করেই আশুতোষ এই সিনেমাটা বানাচ্ছেন।যুদ্ধটা সংঘটিত হয়েছিল মারাঠা সাম্রাজ্য ও আফগান শক্তির সাথে।

আফগানদের নেতৃত্বে ছিলেন আফগান সাম্রাজ্যের তৎকালীন রাজা আহমাদ শাহ আবদালি।ইতিহাসে কোন যুদ্ধে একদিনের মধ্যে এত হত্যার ঘটনা বিরল। বলা বাহুল্য যে,যুদ্ধে আফগান পক্ষের বিজয় সাধিত হয়। আফগানের সৈন্য সংখ্যা ছিল মারাঠাদের থেকে অনেক বেশি এবং তারা অনেক বেশি দ্রুতগামী ছিল। যদিও এই যুদ্ধে মারাঠাদের বীরত্বের প্রশংসা করে আফগান রাজা।

এরপর আফগানরা যা করে তা ছিল কাপুরষতার লক্ষণ। একদিনের মধ্যেই তারা ৪০ হাজার বন্দী মারাঠা সৈন্যকে হত্যা করে এবং পানিপথের রাস্তায় সৈন্যদের কাঁটা মাথা নিয়ে রোড মার্চ করে।যুদ্ধের এইরকম পরিণতির কারণ বা বিশ্বাসঘাতকতা জানতে হলে দেখতে হবে এই সিনেমাটা। আশা করি পদ্মাবত এর মতো এই সিনেমাতে ইতিহাস বিকৃত করা হবে না।

ইতিমধ্যেই ছবিটির একটি পোস্টার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে একটি তরবারি ধরে রয়েছে একটি শক্তিশালী ও সাহসী হাত। নান্দনিক এই পোস্টারটিই ছবিটির মূল কাহিনির পক্ষে অনেক কথাই বলে দেয়। সিনেমাটি দেখতে হলে দর্শকদের ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।