ক্লাস করতে এসে মুশফিক কখনোই গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি, বললেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিলয়

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের ছাত্র ছিল। এখন ইতিহাস বিভাগ থেকেই এম ফিল করছে। মুশফিকুর রহিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়। সে তার বন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। তার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল।

মুশফিকুর রহিম, অসাধারন একজন মানুষ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সম্প্রতি তার হল, ব্যাচ, ক্যাম্পাস প্রসংগে অনেকের জানার আগ্রহ থেকে এই লেখার অবতারনা। মুশফিক ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে ৩৬ তম ব্যাচে ইতিহাস বিভাগে মেধা তালিকায় (তখন খেলোয়ার কোটা বন্ধ ছিলো) ভর্তি হয়। ইতিহাসের ১০ জনকে আল বেরুনী হলে সিট দেয়া হয়, তার মধ্যে মুশফিকুর রহিম একজন।

রাজনৈতিক কারনে হেলাল উদ্দিন সুমন প্রথম দিকে বাহিরে থাকলেও পরবর্তী সময়ে একমাত্র সে-ই ইতিহাসের কান্ডাড়ি হয়ে হলে অবস্থান করে। বাকিরা অন্যান্য বন্ধুদের সাথে অন্য হলে অবস্থান করেই ছাত্র জীবন শেষ করে। মুশফিকুর রহিম আল বেরুনী হলে এলোটেড হলেও বন্ধুদের কারনে এম এইচ হলকে আপন করে নেয়। এম এইচ হল নিজেও মুশফিকুর রহিমকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। ৩৫৮/বি ব্লক মুশফিকের পদচারণায় সর্বদা মুখরিত থাকতো।

হলের হালিমের দোকানে নাস্তা করা আর ইকবালের দোকানে ভুড়িভোজ করা ছিলো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এছাড়াও ক্যাফেটেরিয়া ও বটতলায় আমরা প্রায়শই খেয়ে থাকতাম। মুশফিক ক্যাম্পাস লাইফে একদিন ক্যাম্পাসে রাত্রিযাপন করেন, সেটাও এম এইচ হলে ছিলো। শত ব্যস্ততার মাঝেও সে ক্লাস, পরীক্ষার ব্যপারে খুব সিরিয়াস ছিলো। অসাধারন মেধাবী ছাত্র মুশফিক। খেলাধুলায় না থাকলে নিঃসন্দেহে সে ডিপার্টমেন্টের সেরা রেজাল্টের ছাত্র হতো।

বর্তমানে মুশফিক ও আমি ইতিহাস বিভাগে এম ফিলের ছাত্র। তাকে যদি অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিভাগ নিতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রানীত হবে। ২৯ মার্চ ২০০৭ আমাদের প্রথম ক্লাস শুরু হয়। আমাদের ক্লাস শুরুর সময় ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলা চলায় মুশফিক প্রথম দিন থেকে ক্লাস করতে পারেনি। ৯ই মে ২০০৭ ঢাকায় বাংলাদেশ ভারত সিরিজ চলাকালীন সময়ে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তার সাথে আমার প্রথম ফোনে কথা হয়।

আমাদের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে সে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হয়। সেদিন তার জন্মদিন ছিলো তখন না জানলেও পরের গুলো উৎযাপনে মিস হয়নি। বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই বোন ও বড় ভাই বোন এবং সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের কারনে মুশফিক সকলের প্রিয়ভাজন। তার বিষয়ে কথা বলে শেষ করা কঠিন। তার অনেকগুলো গুনের মাঝে দুইটি গুনের কথা বলে লেখা শেষ করবো।

১. সে কোনোদিনও ক্যাম্পাসে দেরি করে আসেনি। আমার হল থেকে বেড় হতে দেরি হয়েছে কিন্তু সে যথাসময়ে চলে আসছে। ২. ক্লাস করতে এসে সে কখনোই গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি। গেটের সামনে গাড়ি রেখে পায়ে হেটে অথবা রিক্সায় ক্যাম্পাসে চলাফেরা করেছে। তবে খেলার কারনে দুইদিন গাড়ি নিয়ে ঢুকেছিলো। আমার দেখা অনুসরনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মুশফিকুর রহিম। আমি বা আমরা তার বন্ধু হতে পেরে গর্বিত।