যে সৎপথ অবলম্বন করে, তার জন্যই তা অবশ্যই কল্যাণকর হবে

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন,‘যে ব্যক্তিই সৎপথ অবলম্বন করে, তার সৎপথ অবলম্বন তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হয়। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার পথভ্রষ্টতার ধ্বংসকারিতা তার ওপরই বর্তায়।

কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আর আমি (হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝাবার জন্য) একজন পয়গম্বর না পাঠিয়ে দেয়া পর্যন্ত কাউকে আযাব দেই না।-(বনী ইসরাঈল: ১৫.)

এই আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন যে, সৎ ও সঠিক পথ অবলম্বন করে কোন ব্যক্তি আল্লাহ ও রসূলের প্রতি অনুগ্রহ করে না বরং সে তার নিজেরই কল্যাণ করে। অনুরূপভাবে ভুল পথ অবলম্বন করে কোন ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে না, নিজেরই ক্ষতি করে।

আল্লাহর রাসুলগণ মানুষকে ভুল পথ থেকে বাঁচানোর এবং সঠিক পথ দেখানোর জন্য যে চেষ্টা করেছেন তা নিজের কোন স্বার্থে নয় বরং মানবতার কল্যাণার্থেই করেছেন। বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজ হচ্ছে, যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে যখন তার সামনে সত্য এবং মিথ্যা সুস্পষ্ট করে দেয়া হয় তখন সে অন্ধ প্রীতি পরিহার করে সত্যকে মেনে নেবে।

 কুরআন মজীদে বিভিন্ন স্থানে সত্য বুঝাবার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ এটি ন বোঝা পর্যন্ত মানুষের কার্যক্রম কখনো সঠিক নিয়মে চলতে পারে না। প্রত্যেক ব্যক্তির একটি স্বতন্ত্র নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত পর্যায়ে আল্লারহ সামনে এজন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

এ ব্যক্তিগত দায়িত্বের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি তার সাথে শরীক নেই। দুনিয়াতে যত মানুষই একটি কাজে তার সাথে শরীক হোক না কেন, আল্লাহর শেষ আদালতে প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়িত্ব আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং যা কিছু শাস্তি বা পুরস্কার সে লাভ করবে তা শুধু তারই হবে।

এ ইনসাফের ফলে অন্যের অসৎকর্মের বোঝা একজনের ওপর এবং তার পাপের ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তাই একজন জ্ঞানী ব্যক্তির অন্যেরা কি করছে তা দেখা উচিত নয়। বরং তিনি নিজে কি করছেন সেদিকেই তাঁর সর্বক্ষণ দৃষ্টি থাকা উচিত।