বিরল রোগে আক্রান্ত তিন ভাইবোন

নোয়াখালীর কবিরহাটের ফতেজঙ্গপুর গ্রামে পঙ্গুত্বের মতো বিরল রোগে আক্রান্ত একই পরিবারের দুই ভাই ও এক বোন। এতে সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত বাবা-মা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিটে পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তারা। শেষ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান বিরল রোগে আক্রান্তের বাবা-মা।

রোগীদের বাবা আবদুল খালেক ও মা জৈতুন নেছা বলেন, তিন সন্তাদের চিকিৎসা ব্যয় করতে গিয়ে জমি, মূল্যবান ধাতু, ভিটে বিক্রি করেছি। এখন সম্বলহীন হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন কি করব, ভেবে পাচ্ছি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সাহায্যের হাত বাড়াতেন, তবে সন্তানেরা স্বাভাবিক জীবন হয়ত ফিরে পেত।

তারা আরো বলেন, সাত সন্তানের মধ্যে তিন সন্তান অদৃশ্য কারণে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ২০০৬ সালে বড় মেয়ে মারজাহান বেগম নরসেমপুর জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। সেইদিন ক্লাস রুমে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। ধীরে ধীরে শরীরের নিন্মমাংশ ও পিঠের মেরুদণ্ড সরু হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে।

২০১১ সালে একইভাবে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে ইউনুছ নবী ও ২০০৮ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ইয়াছিন নবী আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

কবিরহাট পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান বলেন, এ পরিবারকে সহায়তা করব। এছাড়া তাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন বিধান চন্দ্র সেন গুপ্ত বলেন, এটি বিরল রোগ। প্রথমে রোগটি সনাক্ত করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।