গৌরীপুরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সহোদর ভাই-বোন

ফারুক আহাম্মদ, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): গৌরীপুরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত দুই সহোদর দু’ভাই বোনের চিকিৎসা অর্থের অভাবে  প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে প্রতিমাসে  তাদের জন্য ৩ ব্যাগ রক্ত যোগাড় সহ চিকিৎসা করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর মায়া মমতা ও আলো বাতাস ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে হতভাগ্য শিশু দু’ভাই বোনের।

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর  ইউনিয়নের অষ্টগড় গ্রামের মো.সোহেল চৌধুরী ও তার স্ত্রী ফারজানা বেগম তাদের ২ ছেলে ২ মেয়ে ৪ সন্তানের মধ্যে ১ম ছেলে সন্তান দুর্জয় ও ৩য় মেয়ে সন্তান সালমা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত।

সোহেল ও ফারজানার বিয়ের পর ভালই চলছিল তাদের সংসার।স্বপ্ন আর ভালবাসার সংসার পূর্ণ করতে একদিন ফারজানার কোল জুড়ে আসে ছোট্ট দূর্জয়। কিন্তু হঠাৎই বদলে যায় এই সুখের দৃশ্যপট। দুর্জয়ের বয়স যখন ৬মাস তখন থেকেই তাকে কেমন যেন ফ্যাকাশে দেখাতে থাকে। বাবা মায়ের উদ্ব্বিগ্ন মন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দূর্জয়ের রক্তে ধরা পড়ে একটি জটিল রোগ থ্যালাসেমিয়া।

এরপর থেকে প্রতিমাসে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয় দুর্জয়কে। বর্তমানে দুর্জয়ের বয়স ১৪ বছর। পরবর্তি ৩য় সন্তান মেয়ে উন্মে সালমা তারও  জন্মের ৬ মাসের মাথায় ধরা পড়ে সেও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। উন্মে সালমার বয়স ৬ বছর।

এ রোগে বয়স ও ওজনের সাথে রক্তের পরিমান নির্ভর করে। বর্তমানে প্রতিমাসে দুর্জয়ের ২ব্যাগ ও সালমার ১ ব্যাগ করে দু’জনকে ৩ পাউন্ড করে রক্ত দিতে হচ্ছে। দুর্জয়ের রক্তের গ্রুপ (বি, পজেটিভ)  ও সালমার (এবি, পজেটিভ)।

প্রতিমাসের ২৫ তারিখের মধ্যে রক্ত সঞ্চালনের জন্য দু’শিশুকে নিয়ে যেতে হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভর্তি হয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষার পর অপেক্ষা করতে হয় রক্তের জন্য। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের দারস্ত হলে তারা রক্ত দাতা হন।

এভাবে প্রতি মাসে ৫ দিন করে এই দরিদ্র পরিবারটির  ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে থাকতে হয় ।
দীর্ঘদিন এর খরচ বহন করলেও হতদরিদ্র এই পরিবারটির পক্ষে এখন তা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন থ্যালাসেমিয়া জটিল রক্ত শুন্যতা রোগ। শিশু দু’টিকে বাঁচাতে হলে আজীবন এভাবে রক্ত দিতে হবে অথবা  অপারেশন করতে হবে। কিন্তু দুর্জয়, সালমার বাবা গরিব সুহেলের পক্ষে অপারেশনের টাকা জুগাড় করা এটি একটি অসম্ভব ব্যাপার।

মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য। ওদের বাচাতে হলে সম্মলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশু দু’জনকে বাচাতে এগিয়ে আসতে হবে বিত্তবান, সরকার, বিবেক ও সমাজকে।