কোটাই থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

কোটা সংস্কার হলে ফের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যেহেতু চান না সেহেতু কোনো কোটা প্রথাই থাকবে না। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের নেতৃত্বে আসবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীরা মেনে নিচ্ছে না, সেহেতু কোটা ব্যবস্থায় তুলে দেওয়া হবে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করেন।

নারীদের অগ্রগতিতে আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নারীদের অগ্রগতির জন্য কাজ করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর ক্ষমতায়নে প্রথম পদক্ষেপ নেন। আর সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছি। আজ সেক্রেটারিয়েটসহ সরকার, প্র্রশাসন ও বিচার বিভাগে নারীরা এগিয়ে গিয়েছে।

কিন্তু দেখা গেছে, নারীরাও এখন কোটা প্রথার সংস্কার চান। এদিকে জেলা কোটা দিয়েছি। কিন্তু জেলায় জেলায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে গেছে। যেহেুত সবাই কোটা চায় না, তাই কোটা প্রথা বাতিল’।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে, পরীক্ষা ছেড়ে আন্দোলনে নেমেছে। যারা জাতির ভবিষ্যৎ, তারা যদি এভাবে ক্লাস পরীক্ষা ছেড়ে আন্দোলনে নামে তা মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে ফেসবুক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে প্রযুক্তি আমরা দেশে নিয়ে এসেছি, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আন্দোলনে আহত একটি ছেলে মারা গেছে, এমন গুজব ছড়িয়ে ছেলেমেয়েদেরকে রাস্তায় নামানো হয়েছে। গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীরা হলের গেট ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ওই রাতে ওদের কথা ভেবে আমি ঘুমুতে পারি নি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে জানিয়ে প্র্রধানমন্ত্রী বলেন,যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-একুশে টেলিভিশন