ক্লান্ত পুলিশদের পানি পান করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আন্দোলনকারীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্লান্ত পুলিশ সদস্যদের পানি পান করিয়ে আন্দোলনের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রধার ফটক এলাকায় এমন সোহার্দ্যপূর্ণ আচরণ লক্ষ করা যায়। একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়েও বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ জানান, অর্ডারের অপেক্ষায় ছিলাম। স্যারের অর্ডার পেলেই আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর অ্যাকশনে যেতাম। এখনো বলা যাচ্ছে না কি হবে? তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতটাই মানবিক তা ভেবেই নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে পুলিশকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম এবং পিংকি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমরা বিবেকের জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছি।’

জানা যায়, দফায় দফায় বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বুধবার আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা শর্তেও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর বিরাগভাজন না হয়ে অহিংস আন্দোলনের অনন্য দৃষ্টান্ত দেখাতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে প্রীতি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অহিংস আন্দোলনের দুটি চিত্র দেখা যায় ফুটন্ত লাল গোলাপ দিয়ে কর্তব্যরত কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন এবং দিশাকে বরণ করে নেয় ইবি শিক্ষার্থীরা। সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। যখন তারা ক্লান্ত হয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বসে পড়েন। পানির জন্য টিউবওয়েল খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েল থেকেও পানি এনে দেন।

একই সঙ্গে রৌদ্রের উত্তাপে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পুলিশ সদস্যদের পানি পান করানোর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এমন চিত্র অন্য পুলিশ সদস্যরা দেখে হতবাক হন।

এ বিষয়ে ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু শত্রু নয়। শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর কোনো হামলা করেনি আমরাও কোনো আক্রমণে যাইনি। আর তাদের এই আন্তরিকতা দেখে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে।

এদিকে আজ বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করেন। কোটার বিষয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তিনি বলেন, ছাত্ররা যেহেতু আর কোটাব্যবস্থা চায় না সেহেতু এখন থেকে বাংলাদেশে আর কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বিশেষ বিবেচনায় চাকরি দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বাসভবনে যারা হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর লুটপাটে জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। লুটের মাল কোথায় আছে, তা ছাত্রদেরই বের করে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ রোদের মধ্যে ছাত্ররা রাস্তায় বসে আন্দোলন করছে, এটা ঠিক হচ্ছে না। তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া এমনিতেই ঢাকায় যানজট লেগে থাকে সব সময়। রাস্তাঘাট বন্ধ করে ছাত্ররা আন্দোলন করছে। এতে মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ হচ্ছে। যেহেতু এত কিছু হচ্ছে, তাই আর কোনো কোটাই থাকবে না। বাতিল করে দিলাম।

এ সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।-বিডিমর্নিং