বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা চাই দেশের মানুষ বিদ্যুৎ যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কিন্তু অনেক টাকা খরচ হয় এবং যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকা কিন্তু বিদ্যুতের দাম আমরা গ্রহণ করি না। এখানে আমরা ভর্তুকি দেই।

সেক্ষেত্রে আমি প্রত্যেককেই বলবো বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।’বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১৫ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে তিনি অনুষ্ঠান থেকে উদ্ভাবনীমূলক অনলাইন ট্রেনিং প্লাটফর্ম ‘কুশলী’র উদ্বোধন করেন। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে যে ১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ধামরাই, নিকলী, রাউজান, পীরগঞ্জ, খোকসা, দেবহাটা, রূপসা, ফুলতলা, দীঘলিয়া, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, বাঘাতিপাড়া, বেড়া, হবিগঞ্জ সদর এবং চুয়াডাঙ্গা সদর।

জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ করে আপনারা আপনাদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারেন সেদিকে আপনাদের যত্নবান হতে হবে। এমন না যে, সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল, এটা করলে কিন্তু চলবে না। প্রত্যেককেই এ ব্যাপারে যথাযথভাবে আন্তরিক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঘর থেকে বের হবার সময় নিজ হাতে বিদ্যুতের সুইচটি অফ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, স্কুল-কলেজ অফিস, আদালতে বা আপনারা যারা সরকারি কর্মচারি আছেন তারা নিজ হাতে সুইচটা অফ করলে আপনাদের কোন ক্ষতি হবে না বরং দেশের সম্পদটা আপনি রক্ষা করতে পারলেন।

তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েও ঘর-বাথরুম থেকে বের হবার সময় নিজ হাতে বিদ্যুতের সুইচ অফ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজ হাতেই কিন্তু বিদ্যুতের সুইচগুলো অফ করি তাতে আমার কোন সম্মান যায় না। নিজের কাজ নিজে করাতে কোন লজ্জা নেই।

কিন্তু, এতে সুবিধা যেটা পাবেন বিদ্যুৎ ব্যবহারে যদি সাশ্রয়ী হন তাহলে বিদ্যুৎ বিলটা কম আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা এসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ শেষে চার্জারটি বিদ্যুতের সংযোগ থেকে খুলে রাখলেও অনেকটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায় বলে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখনই আমরা দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণের চিন্তা করি। আমাদের উদ্যোগের ফলেই সেই সময়ে ১৬শ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে চার হাজার ৩শ মেগাওয়াট করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে না পারায় দেশ আবারো পিছিয়ে পড়ে উল্লেখ করেন।শেখ হাসিনা এ সময় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার ২০০১ সালে রেখে যাওয়া চার হাজার ৩শ মেগওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না বেড়ে উল্টো কমে তিন হাজার ২শ মেগাওয়াট হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের পুত্রের খাম্বা তৈরীর কারখানা চালানোর জন্য বিভিন্নস্থানে বিদ্যুৎ না দিলেও রাস্তার পাশে কেবল বিদ্যুতের খাম্বা পুঁতে রেখে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ায় বিএনপি-জামায়াত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ নাই কিন্তু রাস্তার পাশে খাম্বা পড়ে আছে। কারণ, আমরা জানতে পারলাম তখনকার যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া তার ছেলে খাম্বা নির্মাণের ব্যবসা শুরু করেছিল। ওই জন্য দেশের মানুষকে খাম্বা দিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ দেয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ মেগাওয়াট থেকে শুরু করে এখন ১৬ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছি। পরে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতায়িত ১২টি স্থানের জনগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক, জাপান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।